স্টাফ রিপোর্টার॥ মহান মে দিবস আজ। দিনটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের রক্তঝরা সংগ্রামের গৌরবময় দিবস হিসেবে সারাবিশ্বে পালিত হয়। কিন্তু এ বছর দিবসটি অতিবাহিত হচ্ছে হাজার হাজার শ্রমিকের দীর্ঘশ্বাসের ভিতর দিয়ে। মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রকোপে জনসমাগম নিবারণে বন্ধ রয়েছে দেশের অধিকাংশ কলকারখানা ও ছোট বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। বন্ধ রয়েছে দিন মজুরদের কাজ। সে অবস্থায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শ্রমিকরা। অপ্রতুল খাদ্য সহায়তায় পরিবারগুলো হতাশায় দিনাতিপাত করছেন। অপরদিকে দুর্ভোগ ভোগান্তি রয়েছে দেশের বৃহৎ বাণিজ্যের খাত গামেন্টসের শ্রমিকরা। মালিকদের নির্দেশনা মানতে গিয়ে তারা একবার ঢাকার দিকে ছুটছেন আবার ফিরছেন বাড়ির দিকে। গতকালও দণিাঞ্চল দিয়ে ঢাকায় প্রবেশের মুখ দৌলদিয়া ঘাটে ভিড় ছিল গামেন্টস কর্মীদের। এছাড়া একই দিন আশুলিয়ায় একটি গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে বেকার হন তিনশ’ শ্রমিক। এর আগে করোনার মধ্যে বন্ধ হয়েছে আরও কয়েকটি কারখানা। নিজেদের বেতন-ভাতা নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন এ শ্রমিকরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেতনের আশায় অনেকে নানা কৌশলে ট্রাকে অথবা কাভার্ড ভ্যানে ছুটছেন কর্মস্থলের দিকে।
এছাড়া এ বছর শ্রমিকরা মহান দিবস পালনে উল্লেখযোগ্য কোন কর্মসূচি রাখেননি। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে মে দিবসে অতিতের মত কর্মসূচি বাস্তবায়ন না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ-এর সভাপতি হাবীবউল্লাহ বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম মে দিবসে সকাল ১০টায় যার যার অবস্থান থেকে কেন্দ্রের প্রেরিত ঘোষণা পাঠ করার আহ্বান জানান। তবে ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) দিবসটি উপলে আজ বেলা ১২ টায় প্রেসকাব যশোরের সামনে লাল পতাকা নিয়ে মানববন্ধন করবে বলে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
দলটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, করোনার কারণে সকল মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে তিগ্রস্ত যারা শ্রমজীবী। আমাদের দেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিয়ে যা ঘটেছে তা অমানবিক। সরকার তাদের বেতন দেয়ার জন্য টাকার দেয়ার পরও ছাটাই হচ্চে। এমনকি বেতনের চল্লিশ শতাংশ কেটে নিয়ে বেতন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যা শ্রম আইন পরিপন্থি। শ্রমজীবী মানুষের সাথে অন্যায় আচরণ। জাহিদ আরও বলেন, করোনার এ সময় সরকার খাদ্য নিরাপত্তার কথা বললেও শ্রমজীবী মানুষ খাদ্য নিরাপত্তা পায়নি।
আজ সরকারি ছুটির দিন। ১৮৮৬ সালের এই দিনে শ্রমিকরা আট ঘণ্টা কাজের অধিকারের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্প এলাকায় ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। আন্দোলন চলাকালে শিকাগোর হে মার্কেটের সামনে বিশাল শ্রমিক জমায়েতে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ১১ শ্রমিক। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়িয়ে ওই শ্রমিক বিােভ ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। গড়ে ওঠে শ্রমিক-জনতার বৃহত্তর ঐক্য। তীব্র আন্দোলনের মুখে শ্রমিকদের দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। অধিকার আদায়ে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের স্মরণে ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ২য় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে দিনটিকে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের সব দেশেই দিবসটি পালন করা হয়।





