অসুস্থ্য বৃদ্ধাকে ফেলে পালিয়ে গেলেন স্বজনরা॥ দেখভালের দায়িত্ব নিলো সমাজসেবা অধিদপ্তর

মনিরুল হায়দার ইকবাল, মোংলা (বাগেরহাট)॥ এবার মোংলার পশু হাসপাতালে অসুস্থ্য এক বৃদ্ধাকে (নারী) রাতের আধারে গোপনে ফেলে রেখে পালিয়ে গেলেন স্বজনরা। আর স্বজনদের নিষ্ঠুর আচরনের শিকার এ বৃদ্ধা খেয়ে না খেয়ে ঝড় বাদলের রাত কাটিয়েছেন পশু হাসপাতালের কৃত্তিম প্রজনন সেডে। টানা প্রায় সপ্তাহ খানেক পর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। আর তার খাদ্য,বস্ত্র চিকিৎসা ও বাসস্থানের দায়িত্ব নিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় সপ্তাহ খানেক আগের ঘটনা। হঠাৎ এক ভোর বেলা মোংলা শহর তলীর বটতলা এলাকার পশু হাসপাতালের সামনের রাস্তার পাশে প্রতিবেশীরা এ বৃদ্ধাকে পড়ে থাকতে দেখেন। অনেকটা পরিপাটি বিছানা, আর পড়নের কাপড়,শীত বস্ত্র সবই রয়েছে তার সঙ্গে। মনে হচ্ছিল-কেউ হয়তো কিছুক্ষণ আগে বিছানাটি ঠিক ঠাক করেই শুয়ে রেখে গিয়েছেন তাকে। অসর ও অসুস্থ্য শরির নিয়ে শুয়ে থাকা এ নারী কিছু যেন বলতে চাইছিল পথচারীদের। সকাল গড়িয়ে দুপুর, তার পর সন্ধ্যার আগমুহুর্তে হঠাৎ আকাশে মেঘ, বিদ্যুৎ চমকানো গর্জনের মধ্যে পাশের বটবৃক্ষের নীচে আশ্রয় নিলেন হতভাগ্য এ নারী।
কিছুটা দূরে তার হাঁড় কাঁপনি আর অসহায়ত্ব এলাকার এক গৃহবধুর চোখে পড়ে। ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে মানবতার টানে বৃদ্ধার কাছে ছুটে আসে ওই গৃহবধু। তাকে তাৎক্ষনিক উদ্ধার করে খাবার ব্যবস্থা করা হয়। পরে স্বজনদের রখে যাওয়া বিছানা পত্র সহ তার ঠাই হয় পশু হাসপাতালের কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের পরিত্যক্ত সেডে। টানা সপ্তাহ খানেক ধরে তার খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় নানা সাহায্যে এগিয়ে আসো প্রতিবেশী অনেকে। কানে কিছুটা শুনলেও,চোখে পুরোপুরি দেখতে পান না এ বৃদ্ধা। প্রায় ৮০ উর্ধ এ বৃদ্ধা মানষিক ভারসাম্যহীন। আবার কখনও কখনও স্পষ্ট নিজের নাম বলেন জোহরা বেগম। আর গভীর ভাবে মনে করেন বাড়ি- ঘর,পূত্র সন্তান ও স্বজনদের কথা। এ স্বজনরা তাকে নির্যাতন করতো এমনটা অভিযোগ তার। সে শুধু বলতে পারে-তার বাড়ি ফরিদপুরে। আর তার বোনই এখানে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে গেছেন। শেষে বুধবার বিকেলে স্থানীয়দের মাধ্যমে ঘটনাটি নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। এ দিন তাকে উদ্ধার সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ভর্তি করা হয়েছে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এ বিষয় মোংলা উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা এস এম মাসুদ রানা জানান, ওই বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখানে কিছুটা সুস্থ্য হলে তাকে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের নারী-শিশু আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাহাত মান্নান বলেন, এ বিষয়টি স্থানীয় বিভিন্ন মাধ্যমে নজরে আসার পর ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার ও তার চিকিৎসা সহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। তিনি সুস্থ্য হয়ে উঠলে তার পরিচয় জানা সম্ভব হবে। অপাতত সমাজ সেবা অধিদপ্তর তার দেখভালের দায়িত্ব পালন করবে।

ভাগ