যবিপ্রবি জেনোম সেন্টারে ল্যাব ক্লিনের কার্যক্রম শুরু, নমুনা পরীক্ষা আপাতত বন্ধ

আকরামুজ্জামান ॥ কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষায় যবিপ্রবি জেনোম সেন্টারের পরীক্ষাগারের গবেষকদের সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গবেষকরা যাতে সংক্রণে জড়িয়ে না পড়েন সে জন্য জেনোম সেন্টারের ল্যাব কিনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যেকারণে আগামী দুই থেকে তিন দিন এ ল্যাবে করোনা সন্দেহ মানুষের নমুনা পরীক্ষা বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন।
যোগাযোগ করলে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভিসি প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, গত ১৭ এপ্রিল শুক্রবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে করোনা সন্দেহ রোগীর নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। যা একটানা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলে। তিনি বলেন, জেনোম সেন্টারের সহকারী পরিচালক কর্মরত প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদের নেতৃত্বাধীন গ্রুপটির সদস্যরা কোয়ারেন্টাইনে গেছেন। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ও অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শিরিন আকতারের নেতৃত্বে আরেকটি গ্রুপ নমুনা পরীক্ষার কাজে নিয়োজিত আছেন।
প্রফেসর আনোয়ার হোসেন বলেন, গবেষণাগারের কিছু নিয়ম আছে। সেটি হলো একটানা চলার পর কিছুদিন বন্ধ রেখে তা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করতে হয়। যে সকল মেশিন ও যন্ত্রপাতি আছে তা কিন করার পর আবার পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে হয়। তাছাড়া বর্তমান সারাদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিকিৎসক করোনা সংক্রমনে আক্রান্ত হওয়ায় আমরা আমাদের গবেষকদের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছি। সেকারণে আমরা আপাতত গবেষণা কার্যক্রম বন্ধ রেখে ল্যাব কিনের উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি বলেন, গত বুধবার থেকে আমরা নমুনা গ্রহন থেকে বিরত রয়েছি। এ ছাড়াও নমুনা পরীক্ষার জন্য আমাদের কাছে কোনো রিএজেন্ট (কাঁচামাল) নেই। বিষয়টি বৃহস্পতিবার যশোর জেলা সিভিল সার্জনকে জানিয়েছি। যেকারণে আগামী দুই দিনের জন্য স্যাম্পলগুলো খুলনা পরীক্ষাগারে পাঠানোর কথা বলেছি সিভিল সার্জনকে।
ভিসি বলেন, এ সময়ে আমরা কোনো পরীক্ষার ফলাফল না দিলেও কিছু ইন্টারনাল রেজাল্ট পেন্ডিং রয়েছে তা হয়তো আগামীকাল শুক্রবার দিতে পারি। এরমধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলার কিছু রিপোর্ট রয়েছে। তিনি বলেন, ল্যাব কিনের জন্য মাত্র দুদিন পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এ নিয়ে কারোর বিভ্রান্ত হওয়ার কারণ নেই। যশোরসহ এ অঞ্চলের মানুষের কল্যানে আমরা আমাদের কার্যক্রম অব্যাহ রাখবো। কারণ এ বিশ্ববিদ্যালয় গোটা দেশের মূল্যবান সম্পদ হলেও এর পেছনে যশোরের মানুষের ত্যাগ রয়েছে। জেনোম সেন্টারের সহকারী পরিচালক প্রফেসর ড. ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ল্যাব কিনের জন্য আমাদের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে এটি বলা ঠিক হবেনা। গবেষণা কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য আমাদেরকে ল্যাব ও আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতি পরিস্কার কার্যক্রম শুরু করতে হয়েছে। এটি শেষ হতে দুই থেকে তিনদিন সময় লাগতে পারে। তারপর আবার কাজ শুরু হবে। এ বিষয়ে যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, গত ২৮ তারিখ থেকে যশোর জেলার নমুনাগুলো খুলনায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। যবিপ্রবির ভিসি আমাকে আপাতত নমুনা না দেওয়ার জন্য বলেছেন। রিএজেন্টের চাহিদার বিষয়ে যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ কিছু বলেছে কীনা এমন প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন বলেন, রিএজেন্ট (কাঁচামাল) শেষ হয়ে গেছে এমন কোনো ইনফরমেশন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এর আগে আমাকে জানাননি। বুধবার তাদের পক্ষ থেকে একটি খরচের তালিকা আমার কাছে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে রিএজেন্টের কথা বলা হয়নি। আমি নিজেই আইডিসিইআরে রিএজেন্ট চেয়ে আবেদন করেছি। বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে রিএজেন্ট নিয়ে রওনা হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে পরীক্ষা যতদিন শুরু না হবে ততদিন পর্যন্ত খুলনা থেকে নমুনা পরীক্ষা করা হবে।

ভাগ