জেলা প্রশাসকের প্রতি বিনীত নিবেদন

0

দিন যাচ্ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। দেশে প্রতিদিন রেকর্ড ভাঙ্গা গড়ার খেলার মতো সংখ্যা বদলাচ্ছে। মাত্র চব্বিশ ঘণ্টায় আক্রান্তের তালিকায় সনাক্তের সংখ্যা শত ছাড়াচ্ছে। পরীার সংখ্যা যত বাড়বে আক্রান্তের সংখ্যা ততই বাড়াবে বলে বলছেন সবাই। শুধু আক্রান্তের সংখ্যা নয় মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে। বিশ্বের অন্যদেশের মতো না হলেও মৃত্যুর সংখ্যা কিন্তু বাড়ছে। সময়ের ব্যবধানে এ সংখ্যা কোথায় যাবে তা এ মূহুর্তে অনুমান করা যাবে না। আক্রান্তের তালিকায় এখন ঢাকা ও নারায়ণ গঞ্জের পর যশোরকে ধরা হচ্ছে। মৃত্যুর সংখ্যা এখানে এখনো উল্লেখ করার মতো না হলেও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। পরীা হলেই অর্ধেক সনাক্ত হচ্ছে। এতে অনুভব করা যায় যত পরীা হবে ততই সনাক্ত হবে,সংখ্যা বাড়বে। ইতোমধ্যেই সনাক্তের সংখ্যা জেলায় অর্ধশত ছুঁই ছুঁই।আক্রান্তের তালিকায় ডাক্তার, নার্স , স্বাস্থ্যকর্মী, ঘরনি, সবই আছে। সর্বশেষ যোগ হয়েছে সাংবাদিক। পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে জেলা প্রশাসক জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছেন । কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়েছে বলে মনে করার কোনো কারণ এখনো দেখা যায়নি। বরং লকডাউনের মূল উদ্দেশ্য বুমেরাং হবার উপক্রম হয়েছে।
একথা সবাই জানে যশোরের আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধিরোধে জেলা প্রশাসক সবার সাথে আলোচনা করে সোমবার বার ২৭ এপ্রিল ভোর থেকে লকডাউন ঘোষণা করেন। মাইকিং করে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা জন চলাচলে কিছু বিশেষ নির্দেশনা জারি করে। যার প্রধান ছিল শারিরীক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বাজার করা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া রাস্তায় না আসা। ঘরে থেকে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু কী দুর্ভাগ্য কেউ তা মানছে না।প্রথমদিনেই বাজারে হলো চাঁদরাত অবস্থা। সে ধারা এখনো চলছে। এরসাথে যোগ হয়েছে রিলিফ গ্রহিতা ও সুবিধা বঞ্চিত হাজার হাজার মানুষের বিােভ। কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্হা ছাড়াই তারা ত্রাণ নিতে আসছে এবং বঞ্চিত হলেই সংঘবদ্ধ হয়ে গায়ে গায়ে মিলে অবস্থান ও বিােভ করছে। ফলে যশোরের পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে থামবে তা কোনোভাবেই অনুমান করা যাচ্ছে না। আমরা সার্বিক এ অবস্থায় রীতিমতো শঙ্কিত। বেপরোয়া মানুষকে ঘরে ফেরাতে না পারলে পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা জানিনা। অনুভবের সীমা সীমিত হয়ে যাচ্ছে। আমরা তাই জেলা প্রশাসকের কাছে বিনীত আহবান রাখতে চাই, পরিস্হিতি নিয়ে আপনি বিব্রত ও শঙ্কিত হবার আগেই কিছু একটা করেন। সময় দ্রুত বয়ে যাচ্ছে বিপদও দ্রুত ধেয়ে আসছে। দয়া করে সময়কে কাজে লাগান, মানুষ বাঁচান।