কে এম আনিছুর রহমান, কলারোয়া(সাতক্ষীরা) ॥ সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বছরের পর বেতন না পেয়ে এমনিতেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন এমপিওভূক্ত কলেজের ননএমপিও শিক-কর্মচারীরা এবং ডিগ্রি পর্যায়ের ননএমপিও শিক-কর্মচারীরা। এর উপর মরার উপর খাড়ার ঘা হয়েছে বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের মহামারী। করোনা পরিপ্রেেিত বর্তমান সরকার সর্বমহলে আর্থিক সহযোগিতা, প্রণোদনা ও অন্যান সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন। এখানেও বঞ্চিত ও পর্দার অন্তরালেই থেকে যাচ্ছে এসকল শিক-কর্মচারীরা। না পাচ্ছেন হাত পাততে, না পাচ্ছেন কাউকে বলতে, না পাচ্ছেন অপ্রকাশ্যেও কোন সহায়তা। তবে এরূপ সহায়তা চান না কলেজের ননএমপিও কোন শিক-কর্মচারীরা। তারা চান বেতন-ভাতা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাতীরার কলারোয়া উপজেলার কাজীরহাট কলেজ, বেগম খালেদা জিয়া কলেজ, বোয়ালিয়া মুক্তিযোদ্ধা কলেজ,বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ, ছলিমপুর হাজী নাছির উদ্দীন কলেজ,সোনার বাংলা কলেজ,ও চন্দনপুর এই সাতটি ডিগ্রি কলেজ উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত এমপিওভূক্ত। তবে এ সব কলেজের ননএমপিও ডিগ্রি স্তর জাতীয় বিশ্ববিদ্যায়ের অধিভুক্ত, বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত (ননএমপিও) ডিগ্রি স্তরের শিক-কর্মচারীরা দীর্ঘ ৮বছর যাবত বিনা বেতনে চাকরী করছেন। পাঠদান, পরীাসহ একাডেমিক সকল কার্যক্রম পরিচালনা করেন তারা। উচ্চ মাধ্যমিক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীার খাতার পরীকের দায়িত্ব পালন করেন এসব শিকরা। সবমিলিয়ে পরিপূর্ণ দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করলেও বেতন পান না তারা।
এমনকি এসকল শিকদের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিবছর কলেজ প্রতি প্রায় ৫ হাজার টাকা করে শিার্থী উপবৃত্তি পান। অথচ শিকরা কাজ করেও কোন বেতনভাতা পান না। তবে এসব কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক-কর্মচারীরা প্রতিমাসে বেতন পেলেও হাত শুন্য ও মলিন মুখে থাকতে হয় ডিগ্রি স্তরের কর্মরতদের। যেনেশুনে দ্বি-মুখি ব্যবস্থাপনা। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিা বিস্তার আর পিছিয়ে পড়া শিার্থীদের এগিয়ে নিতে এসকল শিকরা নিজেদের মেধা ও পরিশ্রম বিলিয়ে দিচ্ছেন উজাড় করে। মফস্বলের প্রত্যন্ত এলাকার এই শিা প্রতিষ্ঠানে
শিার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হয় না কোন মাসিক বেতনও। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিষ্ঠান থেকে কোন টাকা-পয়সাও পান না এসব ননএমপিওভুক্ত শিক-কর্মচারী। কলেজগুলো ১৯৯৫ সালের পর থেকে পথচলা শুরু হয় । কোন কোন কোন কলেজে একটি ৩ তলা ও দ্বিতলা ভবন ও একটি ১তলা ভবনও আছে। প্রত্যেক কলেজে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাও ভালো। তার পরেও আজও ডিগ্রি পর্যায়ের শিক-কর্মচারীরা আজো পান না সরকারি কোনো অনুদান, প্রতিষ্ঠান থেকেও শিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয় না। সংসার চালানোর তাগিদে অনেক শিক টিউশনি, কেউ দোকান-ব্যবসা আবার কেউ কৃষিকাজ বা অন্যান্য কাজের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু বর্তমানে কোভিড-১৯ তথা করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে জাতীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশের মত কলারোয়াতেও এসকল শিককে নিজ নিজ গৃহে অবস্থান করতে হচ্ছে। ফলে তাদের টিউশনিও বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে আবার সম্মান রার্থে তারা কারোর কাছে হাত পাততেও পারছেন না বা পাতবেনও না। এতে শিকরা এক নিদারুণ মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের একটাই দাবি এমপিওভূক্ত করা হোক অর্থাৎ বেতনভাতা দেয়া হোক। তাহলে সংকটকালীন সময়ে তারাই সাধ্যমতো অন্যের সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারবেন।
এ সব প্রতিষ্ঠানের অধ্যদ্বয় যথাক্রমে বলেন, ‘মফস্বল গ্রামাঞ্চলের প্রতিষ্ঠান, শিার্থীরা কোনো বেতন দেয় না। তাই ননএমপিও শিক-কর্মচারীদেরও কলেজ থেকে কোন বেতন-ভাতা দিতে পারি না। আমাদের এসব কলেজের ফলাফল ভালো। এরপরও ডিগ্রি পর্যায়ে এমপিওভুক্তিতে স্থান পায়নি। প্রায় দেড় মাসের মতো কলেজ বন্ধ। এসকল শিক-কর্মচারীরা অন্য যে কাজ করত তাও বন্ধ রয়েছে। কারো কাছে হাত পাততে পারবে না, পাতবেও না। শিক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের এমপিওভূক্ত করণ করা জরুরী।’ আেেপর সুরে কয়েকজন শিক-কর্মচারী বলেন, সম্ভবত বাংলাদেশেই একমাত্র সম্ভব যে, চাকরী করে বেতন পাওয়া যায় না। আমরা চাকরীজীবী বেকার। গ্রামের সন্তানদের দেশসেরা মানুষ বানাতে সারাণ মেধা-পরিশ্রম দিয়ে মাসশেষে নিজের হাড়ি শুন্য রেখে আফসোসের দরিয়ায় সাতার কাটি। স্ত্রী-সন্তানদের মুখগুলোর দিকে তাকালেই বুঝা যায় আমরা কোনো এক আজন্ম পাপিষ্ট কপর্দকহীন মানুষ।




