গোয়ার্তুমি করে বেশি শাস্তির মুখে উমর আকমল

লোকসমাজ ডেস্ক॥ সাম্প্রতিক সময়ে জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করে শাস্তির মুখে পড়েছেন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। এরমধ্যে পাকিস্তানের মোহাম্মদ ইরফান, মোহাম্মদ নওয়াজ ও বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানের নাম রয়েছে। এদের মধ্যে কেবল সাকিবের শাস্তির মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে এক বছর স্থগিতাদেশ রয়েছে। এছাড়াও ইরফানকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় ১ বছরের (৬ মাস স্থগিতাদেশ) ও নওয়াজকে ২ মাসের।
তবে গতকাল উমর আকমল একই ধরনের অপরাধ করে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন। এর মধ্যে নেই কোনো স্থগিতাদেশ। ফলে তিন বছর ক্রিকেটের বাইরে কাটিয়ে তারপরেই ফিরতে হবে তাকে। অপরাধের হিসাবে উমর আকমলের শাস্তির পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণ তাঁর গোয়ার্তুমি করা। জুয়াড়ির প্রস্তাব পেয়ে না জানিয়ে যেমন অপরাধ করেছেন ক্রিকেটাররা। আবার শুনানিতে সবাই বিনাবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন সব অপরাধ। ফলে তাদের শাস্তি অপেক্ষাকৃত কম হয়েছে। এদিকে উমর নিজের অপরাধ অস্বীকারও করেননি উলটো নিজের পক্ষে বারবার সাফাই গাওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন। যেগুলো ছিলো ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক। আর এটি পছন্দ হয়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) ডিসিপ্লিনারি কমিটির। ফলে শাস্তির মেয়াদটা একটু বেশি হয়ে গেছে উমর আকমলের।
পিসিবির তরফ থেকে ডাকা আনুষ্ঠানিক শুনানিতে কোনো আইনজীবি ছাড়া উপস্থিত হয়েছিলেন উমর। সেখানে তাঁর কাছে আসা প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে সেটি স্বীকার করেন উমর। এরপরে কেন তিনি পিসিবিকে এই বিষয়ে কিছু জানাননি সে নিয়ে দিতে থাকেন একের পর এক খোঁড়া যুক্তি। না জানানো যে অপরাধ হয়েছে এটি মানতে রাজি ছিলেন না তিনি। এর জন্য কোনো অনুতপ্ততা কাজ তো করেইনি বরং যুক্তি দিতে গিয়ে নিজের পাশাপাশি বিভ্রান্ত করতে থাকেন বাকী সকলকে। শুনানি শেষে উমরের এমন কাজ নিয়ে পিসিবির কৌসুলি তাফাজ্জুল রিজভী মিডিয়াতে বলেন, ‘নিজের দোষকে সমর্থন করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল আকমল। তার জবাব ছিল বিভ্রান্তিকর। সে কখনোই নিজের দোষ মেনে নেয়নি আবার অস্বীকারও করেনি। তাকে যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, সেগুলো মেনে নিয়েছে। তবু না জানানোর অপরাধ স্বীকার না করে, বরং কেন জানায়নি সে বিষয়ে অযথা যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু এর কোন সুযোগ নেই। হয় তুমি জানিয়েছ না হয় গোপন রেখেছ। মাঝামাঝি কিছু নেই।’
উমরের এমন কাজ সত্ত্বেও বিচারপতি তাঁর জন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, নিজের অপরাধ স্বীকার করছেন কি না। কিন্তু সেখানে এসেও বারবার নিজের পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। এ নিয়ে তাফাজ্জুল আরও যোগ করেন, ‘আজকেও সম্মানিত বিচারক তাকে (আকমল) পরিষ্কারভাবে জিজ্ঞেস করেছে, সে নিজের দোষ স্বীকার করছে কি না। কিন্তু আকমল বারবার নিজের পক্ষেই কথা বলছিল। ফলে তাকে দুইবার প্রস্তাব গোপন রাখার শাস্তিই দেয়া হয়েছে। এর আগে ইরফানকে কম সাজা দেয়া হয়েছিল কারণ সে নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়েছিল। কিন্তু আকমল পুরো বিপরীত কাজই করেছে।’ তাফাজ্জুল মনে করেন এখন থেকে শাস্তির মেয়াদ আরও বাড়ানো উচিত। কারণ বারবার এমন ঘটনা দেখার পরেও শিক্ষা নিচ্ছেন না খেলোয়াড়েরা। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন নিষেধাজ্ঞার সময়কাল আরও বাড়ানো উচিত। এটা পরিষ্কার যে, খেলোয়াড়েরা বারবার দেখা সত্ত্বেও কিছু শেখার চেষ্টা করছে না।’

ভাগ