করোনা টেস্টে উপচেপড়া ভিড়, বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি

লোকসমাজ ডেস্ক॥ করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা করতে গিয়ে হাসপাতালের টেস্টিং সেন্টারগুলোর সামনে সৃষ্টি হচ্ছে উপচেপড়া ভিড়। আর এই ভিড়ের মধ্যে একজন প্রায় আরেকজনের গায়ের ওপরই উঠে যাচ্ছেন। এতে লঙ্ঘিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা টেস্ট করতে এসে ‘সামাজিক দূরত্ব’ না মানার কারণে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। গত রোববার (২৬ এপ্রিল) থেকে মঙ্গলবার—এই ৩ দিন সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)সহ রাজধানীর একাধিক হাসপাতালের করোনা টেস্টিং সেন্টারের সামনে মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
এসব হাসপাতালে আসা রোগীরা জানান, করোনার উপসর্গ নিয়ে বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে গেলে সেখানে পরীক্ষা করে না। তারা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পরীক্ষা করানোর কথা বলেন। রোগীরা আরও বলেন, আইইডিসিআর সরাসরি পরীক্ষার জন্য নমুনা নেয় না। তাদের হটলাইনে কল দিয়েও সহযোগিতা পাওয়া যায় না। তাই তারা বিএসএমএমইউ’র ফিভার ক্লিনিকে চলে আসেন।
গত রোববার বিএসএমএমইউর ফিভার ক্লিনিকে যান যাত্রবাড়ীর আব্দুল আলীম ভূইয়া। তিনি বলেন, ‘আমার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর আইইডিসিআরের হটলাইনে কল করি। কিন্তু তারা কোনো সাড়া না দেওয়া চলে আসি বিএসএমএমইউর ফিভার ক্লিনিকে। কিন্তু এত মানুষ। একজন আরেকজনের গা-ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকেন।’ সোমবার একই ক্লিনিকে গিয়েছিলেন শান্তিনগরের মোসলেহ উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘মানুষের প্রচুর ভিড়। দীর্ঘ লাইন। অনেকেই মাস্কও ব্যবহার করেন না।’
করোনা টেস্টে উপচেপড়া ভিড় প্রসঙ্গে প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘আক্রান্তদের পাশাপাশি সেখানে সাধারণ সুস্থরাও যাচ্ছেন। ভিড় হওয়ার কারণে তারা সেখান থেকে ভাইরাস নিয়ে ফিরবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালগুলোর উচিত মাস্ক, গ্লাভসসহ তাদের সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া। না-হলে হাসপাতাল থেকেই করোনা সংক্রমণ বাড়বে।’ একই অভিমত জানালেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুলতানা শাহানা বানুও। তিনি বলেন, ‘ভাইরাস শুধু সংস্পর্শে ছড়ায় না; ড্রপলেটের মাধ্যমেও ছড়ায়। এ জন্য ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে।’ ভিড়ের বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিএসএমএমইউ-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত মজুমদার বলেন, ‘প্রতিদিন ৩২০ থেকে ৩৫০ রোগী ফিভার ক্লিনিকে আসেন। ক্লিনিক চালুর পর এখন আজ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজারের।’ ভিড়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লোকজনকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করলেও তারা মানেন না।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘বিএসএমএমইউ আমাদের আশ্বস্ত করেছে, তারা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ফিভার ক্লিনিক পরিচালনা করবে।’ হটলাইনে কল দিলে সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফ্লোরা বলেন, ‘এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’ কল দিলে বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও তিনি ফ্লোরা জানান।

ভাগ