লকডাউন মানছেন না যশোর শহরের মানুষ

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ লকডাউন ঘোষণার প্রথম দিন সোমবার যশোর শহরে প্রচুর মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যান নসিমন চলাচল করতে দেখা গেছে। শহরের বাজারগুলোতে মানুষের ভিড় আগের মতই ছিল। বাজার করতে আসা লোকজনের অধিকাংশের মুখে ছিল না মাস্ক। পুলিশ সুপার বলেছেন বাজারে মোটরসাইকেলের অনুমতি নেই। লকডাউন কার্যকর করতে আজ মঙ্গলবার থেকে পুলিশের লোকবল আরও বাড়ানো হবে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা যশোর জেলায় বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ ২৭ এপ্রিল সোমবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছেন। এ সংক্রান্ত এক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মানুষকে কোনোভাবেই শৃঙ্খলার মধ্যে আনা যাচ্ছিল না। এ কারণে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে জেলায় লকডাউন করা হয়।
লকডাউনের প্রথম দিন সোমবার যশোর শহরে উৎসুক মানুষের চলাচল আরও বেড়ে যায়। পুরো শহরজুড়ে রিকশা,আটোরিকশা,ভ্যান, মোটরসাইকেল ইচ্ছেমত চলতে থাকে। মোটরসাইেকেলে দুজন, এমনকী তিনজন আরোহী নিয়েও বীরদর্পে দাপিয়ে বেড়াতে দেখা যায়। শহরের প্রধান প্রধান সড়কে রিকশা, ভ্যান যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। নসিমন, করিমন অন্যান্য দিনের মতই মালামাল নিয়ে শহরে আসা-যাওয়া করে। বড়বাজারে লোকসমাগম কোনোভাবেই কমছে না। সোমবার এইচ.এম.এম রোড ও খালধার রোডে সমস্প্রসারিত বড়বাজারে অধিকাংশ মানুষ মাস্ক না পরেই বাজার করতে আসেন। তবে মোটরসাইকেলে বাজার করতে আসা লোকজনের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মত। সেই সাথে শ শ বাইসাইকেল নিয়ে বাজার করতে এসে মানুষ জটলা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছেন। দোকানিরা দূরত্ব মানলেও ক্রেতাদের শারীরিক দূরত মানার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। অবশ্য কিছু কিছু সচেতন লোককে রেনকোট ও পলিথিনের তৈরী পোশাক গায়ে জড়িয়ে বাজারে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। খালধার রোডে মাছ কিনতে আসা একজন সচেতন ক্রেতা জনৈক শামসুল হক বলেন, লকডাউন ঘোষণার পর যেন বাজারে লোকসমাগম আগের থেকে বেড়ে গেছে। অনেক উৎসুক মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে লকডাউন দেখতে এসেছেন। বাজারে মোটরসাইকেল আর বাইসাইকেলের ভিড়ে কেনাকাটা করা যাচ্ছে না। কড়াকড়ি ব্যবস্থা না নিলে লকডাউন কোনো কাজে আসবে না। কারণ করোনাভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার মূল জায়গা হলো বাজার। এটা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, প্রয়োজনে দোকান খোলা রাখার সময় আরও কমিয়ে আনতে হবে। এদিকে লকডাউন ঘোষণার প্রথম দিনই শহরে প্রচুর বিশৃঙ্খলা দেখা যায়, সারা শহরজুড়ে মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, রিকশা,ভ্যান ,নসিমন চলাচল করতে দেখা গেছে- এ বিষয়ে যশোরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন পিপিএম এর কাছে জানতে চাইলে সোমবার দুপুরে লোকসমাজকে তিনি বলেন, আজ সকালে আড়াই শ’র ওপরে মোটরসাইকেল, নসিমন,করিমন,রিকশা,আটোরিকশা, ভ্যান আটক করা হয়েছে। আমরা মানুষের মধ্যে সচেতনতা আনার চেষ্টা করছি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার আরও বলেন, বাজারে মোটরসাইকেল কোনোভাবেই অনুমতি নেই। অনেকে চুরি করে চালাচ্ছেন। আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে আমরা আরও লোকবল বাড়াবো। যে কোনো মূল্যে লকডাউন কার্যকর করা হবে।