স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে মদ পানে একাধিক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় আরো দুজনকে আটকের কথা স্বীকার করেছে পুলিশ। আমির হোসেন বাবু ও খোকন শেখ নামে ওই দুই মাদক কারবারিকে গত রোববার রাতে আটকের দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু ৩দিন আগে পুলিশ তাদের আটক করে বলে অভিযোগ রয়েছে। সোমবার তাদের আদালতে সোপর্দ করে ৭দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। তবে শুনানি শেষে বিচারক তাদের রিমান্ড নামঞ্জুর করেছেন। এদিকে যশোরে ভেজাল ও অথবা বিষাক্ত মদ পানে ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের টনক নড়লেও আলোচিত দুটি পতিতাপল্লী এলাকার অবৈধ মদের দোকানগুলো বছরের পর বছর ধরে টিকে থাকা নিয়ে নানা অভিযোগও রয়েছে।
পুলিশ জানায়, অবৈধ মদের ব্যবসার সাথে জড়িত আরো দুজনকে গত রোববার রাতে বিভিন্ন স্থান থেকে তারা আটক করেছে। এরা হচ্ছেন-শহরের লালদিঘির পূর্ব পাড়ের আব্দুল জলিল শেখের ছেলে আমির হোসেন বাবু এবং হাটখোলা রোডের মহিউদ্দিন শেখের ছেলে খোকন শেখ। এদের মধ্যে আমির হোসেন বাবুকে মদপানে মৃত্যুবরণকারী শাহিন আলমের ভাই খন্দকার সুজন হোসেনের দায়ের করা মামলায় এবং খোকন শেখকে মদপানে মুত্যুবরণকারী শরীফ উদ্দিন মুন্নার স্ত্রী হীরা বেগমের দায়ের করা মামলায় আটক দেখিয়ে সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হয়। এ সময় আদালতে তাদের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদালতে এই দুজনের রিমান্ড নামঞ্জুর হয়েছে।
একাধিক সূত্র জানায়, ভেজাল অথবা বিষাক্ত মদ পানে জেলার বিভিন্ন স্থানে ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর পুলিশ অবৈধ মাদক কারবারিদের ধরতে ব্যাপক তৎপর হয়েছে। আটকও করেছে ৪ মাদক কারবারিকে। কিন্তু যশোরে বিশেষ করে শহরের বাবুবাজার ও মাড়–য়া মন্দির এলাকার বেশ কয়েকটি অবৈধ মদের দোকান বছরের বছর ধরে কীভাবে টিকো ছিলো তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। এই অবৈধ মদের দোকানগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ থাকলেও উচ্ছেদে কখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। সূত্র জানায়, এই অবৈধ মদের দোকানগুলোর যারা মালিক হিসেবে পরিচিত তাদের অধিকাংশের পরিচয় পতিতাপল্লী কেন্দ্রীক। এদের মধ্যে দুই মাদক কারবারি দুজন পতিতাকে বিয়ে করেছেন। তারা পতিতার স্বামী হিসেবে ওই এলাকায় পরিচিত। অন্যরা বিশেষ করে কর্মচারীদের অধিকাংশ পতিতাদের সন্তান। পতিতাপল্লীতে বড় হওয়ার পর সন্তানেরা মদের দোকানে যাতায়াত করতে করতে চাকরিও জুটিয়ে নিয়েছে। সূত্র আরো জানায়, মাড়–য়া মন্দির সংলগ্ন এলাকায় পতিতাপল্লীর সামনে এয়াকুব আলীর বৈধ মদের দোকান রয়েছে। মূলত এই দোকান থেকে সকল অবৈধ দোকানগুলোতে মদ সরবরাহ করা হয়। বছরের পর বছর ধরে এই সিস্টেমে অবৈধ দোকানগুলো মদে চলে যাচ্ছে। কেরু অ্যান্ড কোম্পানির এই মদ অবৈধ পন্থায় সংগ্রহের পর অবৈধ কারবারিরা অধিক লাভের জন্য তার মধ্যে ডিনেচার স্পিরিট, রেক্টিফাইড স্পিরিট ও পানি মিশিয়ে ভেজাল মদ তৈরি করে থাকে। আর এই মদ আসল মদের দামে বিক্রি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, পতিতাপল্লী এলাকা দেখভালের দায়িত্ব সদর ফাঁড়ি পুলিশের। এই দুুটি পতিতাপল্লীর সামনেই বেশ কয়েক বছর আগে গড়ে উঠেছে অবৈধ মদের দোকানগুলো। কিন্তু বিভিন্ন সময় যে সকল পুলিশ কর্মকর্তা ফাঁড়িতে পোস্টিং পেয়ে এসেছেন তাদের কেউ অবৈধ দোকানগুলো বন্ধ করার ব্যাপারে কখনো কোন পদক্ষেপ নেননি। এমন অনিয়ম মদের দোকানগুলো গজিয়ে ওঠা থেকেই চলে আসছে। মূলত ক্যাশিয়ার প্রথায় এখান থেকে টাকা তোলা হয়। পুলিশ, সিআইডি অথবা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের যারা এখানে সোর্স হিসেবে কাজ করে থাকেন তারাই ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগ পুরনো। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় পত্রপত্রিকায় লেখালেখিও হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তবে ভেজাল অথবা বিষাক্ত মদ পানে এবার একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় অবৈধ মদের দোকানগুলো বন্ধে প্রশাসন পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছেন সচেতন মহল। যদিও এর আগে এখানকার ভেজাল মদ পানে বিভিন্ন সময় মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি।





