করোনায় বিদেশে প্রবাসীরা কর্মহীন টাকা পাঠাতে হচ্ছে স্বজনদের

মাসুদ রানা বাবু ॥ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ অঞ্চলের কয়েকটি গ্রামের প্রবাসী শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। একই সাথে রোজগার বন্ধ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিদেশে থাকা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি সেখানে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এখন উল্টো দেশ থেকে খাওয়ার টাকা পাঠাতে হচ্ছে দেশের স্বজনদের।
পরিবারের সদস্যদের ঘিরে তাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। দেশের অন্যতম বৃহত্তম উপজেলার এ অঞ্চলটি বর্তমানে প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছর ধরে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার শ্রমিক তাদের জীবিকর চাকা সচল করতে প্রবাসের বুকে পাড়ি জমিয়েছেন। করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার আগ পর্যন্তও অনেকে গিয়েছেন। এ অঞ্চলের ঝাঁপা মল্লিকপুর ষোলখাদা লক্ষ্মীকান্তপুর ভরতপুর চাপাতলা ডুমুরখালী রুপাসপুর পাঁচপোতা মুক্তারপুর খাটুরা গোয়ালবাড়িয়া মশ্বিমনগর পারখাজুরা গ্রামের কয়েক হাজার প্রবাসী রয়েছেন। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে তাদের এই প্রবাস যাত্রা। প্রবাসে পরিশ্রমের টাকায় পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর পাশাপাশি ফুটিয়েছেন স্বজনদের মুখে হাসি। এর মধ্য অনেকেই আছেন যারা ধার দেনা করে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েই এই ভাইরাসের কবলে পড়েছেন। এ শ্রমিকদের মধ্যে অধিকাংশ মালয়েশিয়া প্রবাসী। এ ছাড়া রয়েছেন সিঙ্গাপুর দুবাই সৌদি আরব প্রবাসী শ্রমিক। তাদের নিত্য আয়ের টাকায় চলে পরিবারের চাকা। কিন্তু বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে থেমে গেছে তাদের জীবিকার চাকা।
ইতোমধ্যে দেশেও এই ভাইরাসটি আঘাত হেনেছে। যে কারণে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটিকে ঘিরে তাদের স্বজনদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। তাদের স্বজনরা জানান, সমস্যা শুরুর পর থেকে অনেকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগটুকুও বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক আগেই তাদের কাজকাম বন্ধ হয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে তাদের সাথে কথা হলে তারা বলছেন সেখানে তারা যে মালিকের অধীনে কাজ করতেন তিনি তাদেরকে খাওয়া দাওয়া দিচ্ছেন তাই খেয়ে তারা কোনো জীবনধারণ করছেন। তাও পর্যপ্ত না। কোনরকম বেঁচে থাকার মত। অনেকে মোবাইল ফোন করে তাদের স্বজনদের কাছে টাকা চাচ্ছেন। তারা বলছেন আমরা কাজের টাকা থেকে যে সামান্য সঞ্চয় করেছিলাম কাজ না থাকায় সে টাকা বসে বসে খাচ্ছি। এটা শেষ হয়ে গেলে আমাদের কোনো উপায় থাকবে না। বিদেশে বুকে কারও কাছে কোন সাহায্য সহযোগিতা পাব না । এ অবস্থা চলতে থাকলে আমরা না খেয়ে মারা যাব। তাই যত দ্রুত সম্ভব যে ভাবে পারো টাকা পাঠাও।
স্বজনদের এমন আহজারি শুনে অনেকে দেশ থেকে তাদের জন্য টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন। মালয়েশিয়া প্রবাসী শ্রমিক হাসানুজ্জামানের বাবা আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, তিনি ছেলের সমস্যার কথা শুনে দেশ থেকে ৪০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। অপর শ্রমিক ইয়াসিন আলীর বাবা আবু মুসা জানান, মাস ছয়েক আগে তার ছেলে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। যে টাকা খরচ করে গিয়েছে তার অর্ধেক টাকাও পাঠতে পারেনি । এরপর সমস্যার কারণে সে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। দূর সম্পর্কের তার এক ভাই সহযোগিতায় কোনরকম খেয়ে বেঁচে আছে। এই অবস্থায় প্রবাসী শ্রমিক ও তাদের স্বজনরা সরকারের সাহয্য সহযোগিতা চেয়েছেন।

ভাগ