চৌগাছায় ইউএনওর হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল কয়েক হাজার বিঘা জমির বোরো ধান

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)॥ যশোরের চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলামের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল উপজেলা সিংহঝুলি ইউনিয়নের কয়েক হাজার বিঘা জমির বোরো ধান। স্থানীয়রা ভেড়িবাধ দিয়ে পুকুরে মাছ চাষ করায় মাঠের পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গত দু’দিনের বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধ হয়ে উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের মাঠে কয়েক হাজার বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে যায়। রবিবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল বাদল, ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম, সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তার উপস্থিতিতে ওই ভেড়ির বাঁধ কেটে দেন। মাঠের পানি সরকারি খালে পড়ায় মাঠের কয়েক হাজার বিঘা জমির বোরো ধান রক্ষা পায়।
স্থানীয়রা জানান সিংহঝুলি ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের পূর্বপাড়া মাঠে অতিরিক্ত পরিমানে ভেড়িবাধের মাধ্যমে পুকুর তৈরি করে অনেকে মাছ চাষ করেন। এদিকে ভেড়ি অন্যদিকে ফুলসারা গ্রামের সরকারি খালের ব্রিজে পাঠাবাধ। যার ফলে এ মাঠে অতিরিক্ত পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় পানি সরকারি খালে যেতে পারে না। গত কয়েকদিনের একটানা বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কোন রাস্তা না থাকায় ইউনিয়নের ৩/৪টি গ্রামের কয়েক হাজার বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। স্থানীয় কৃষকরা পারি রেব করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। কৃষকদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে রবিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম ঐমাঠে উপস্থিত হন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিংহঝুলি ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল বাদল, ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম, ব্লক সুপারভাইজারসহ গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তিনি তাৎণিকভাবে ভেড়িগুলোর মালিকদের ডেকে বাধ কেটে পানি সরকারি খালে বের করে দেয়ার নির্দেশনা দেন। এ সময় স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি একে অন্যের কিভাবে অধিক ক্ষতি করা যায় সেভাবে বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি বের করার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম ও ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল বাদল ভেড়ির মালিকদের ক্ষতি কম করে পানি বের করার ব্যবস্থা করেন। বেড়ির বাঁধ কাটতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাঁধার মুখে পড়েন। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও চৌগাছা থানার এসআই গিয়াস উদ্দিনের হস্তক্ষেপে তা নিবৃত হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকার কয়েক হাজার বিঘা জমির পাকা বোরো ধান পানিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। স্থানীয় কৃষকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সেখানে গিয়ে পানি বের করার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্ত স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি শত্রুতা করে এ কাজে বাধা সৃষ্টি করে। যেটা খুবই দুঃখজনক। আপাতত অস্থায়ীভাবে সমাধান করা হয়েছে। খুব দ্রুত খাল খননের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে সমাধান করা হবে। এছাড়াও ফুলসারা ইউনিয়ন এর একটি কালভার্টের পাটা উচ্ছেদ করা হয়। সিংহঝুলি ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল বাদল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুকুর মালিকদের সবচে কম ক্ষতি করে যেন কৃষকদের ধান বাঁচানো যায় সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ভাগ