লোকসমাজ ডেস্ক॥ এই ভিডিও ফুটেজটা যতদিন থাকবে ততদিনই মনে হয় কোনও না কোনওভাবে এটা মানুষ দেখবে। সেই যে ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বাঁহাতি অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংয়ের ছয় ছক্কা মারার দৃশ্য। যুবরাজ সিংয়ের নিষ্ঠুর ব্যাটিংয়ের শিকার হয়েছিলেন সেদিন ইংল্যান্ড পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউনে থাকার এই সময়টিতে বারবার এই দৃশ্য দেখানো হচ্ছে টিভিতে, মানুষ দেখছে ভিডিও স্ট্রিমিংয়ে। আর এটি নিয়ে কথাও বলতে হচ্ছে ২০১১ সালে ক্যানসারবিজয়ী যুবরাজ সিংকে। ‘দ্য দুসরা’ পডকাস্টে ৩৮ বছর বয়সী ভারতের অলরাউন্ডার বলেছেন, এই ম্যাচটির দিকে যখন তিনি ফিরে তাকান, মনে পড়ে ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ তাকে তাতিয়ে দিয়েছিলেন, আর তিনি ব্রডকে পরের ওভারে ছয় ছক্কা মেরে তার দিকে একটা হাসি দিয়েছিলেন। ওই ম্যাচের ১৮ ওভার শেষে ভারতের রান ছিল ৩ উইকেটে ১৭১, তখনই ওটা অনেক রান। ভারতকে থামানোর চেষ্টায় যুবরাজকে স্লেজিং করেছিলেন ফ্লিনটফ ওরফে ফ্রেডি। কোনও লাভ হয়নি! যুবরাজ ছটি ছক্কা মেরে দিলেন ১৯তম ওভারে। যুবরাজ প্রথমে ফ্রেডির দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন, তারপরই বিদ্রূপের হাসি অ্যান্থনি মাসকারেনাসকে উদ্দেশ্য করে। এই মাসকারেনাসই দিন কয়েক আগে একটি ওয়ানডেতে যুবরাজের বলে মেরেছিলেন পাঁচ ছক্কা। এক ওভারে ছয় ছক্কায় যুবরাজ ১২ বলে করেন ফিফটি, ১৪ বলে মোট ৫৮, ভারতের ২১৮। তবে ইংল্যান্ডও দুর্দান্ত লড়েছিল, তাদের রান তাড়া শেষ হয় ২০০ রানে। মানে ১৮ রানে হার। এই জয়ে ভারত উঠে যায় সেমিফাইনালে। তারপর তো তারা ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ট্রফিটাই নেয় জিতে।
এই ম্যাচ অনন্তকাল বেঁচে থাকবে ক্রিকেট ইতিহাসে। ৪০ টেস্ট, ৩০৪ ওয়ানডে ও ৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা যুবরাজের মনে এটি চিরকালের এক আনন্দের ফল্গুধারা। ব্রডের সঙ্গে এ ম্যাচ নিয়ে এখনও হাসি-ঠাট্টা চলে যুবরাজের, ইংলিশ পেসারকে ম্যাচটির একটি স্মারকও উপহার দিয়েছিলেন তিনি। কীভাবে দিয়েছিলেন সেই কাহিনীটা বেশ মজার। এতদিন সেভাবে যা আলোয় আসেনি। ম্যাচের পরদিন যুবরাজের কাছে আসেন স্টুয়ার্ট ব্রডের বাবা ক্রিস ব্রড, যিনি তখন ওই টুর্নামেন্টের একজন ম্যাচ রেফারি। এসে বলেন, ‘তুমি তো আমার ছেলের ক্যারিয়ার প্রায় শেষই করে দিয়েছো, এবার তাকে তোমার সই করা একটি জার্সি দাও তো দেখি।’ ‘আমি আমার ইন্ডিয়া জার্সিটা দিলাম এবং স্টুয়ার্টকে লিখলাম “ আমি পাঁচটি ছক্কা খেয়েছি, সুতরাং আমি জানি এটা কেমন লাগে। শুভকামনা, ইংল্যান্ড ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে।”’ স্টুয়ার্ট ব্রডের কারিয়্যার কিন্তু শেষ হয়নি, এখন তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার। এটি বিস্ময়করই লাগে যুবরাজের কাছে, ‘এক ওভারে ছয় ছক্কা খাওয়ার পর আমার মনে হয় না ভারতের কোনও বোলারের ক্যারিয়ার এমন দুর্দান্ত হতে পারতো।’





