এখনই সরবরাহ কমাতে শুরু করেছে কুয়েত

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজের (ওপেক) চতুর্থ বৃহত্তম জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশ কুয়েত। জোটটির সর্বশেষ চুক্তিটি কার্যকর হবে আগামী মাসের প্রথম দিন থেকে। তবে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমাতে শুরু করেছে দেশটি। খবর অয়েলপ্রাইসডটকম।
কুয়েতের জ্বালানি তেলমন্ত্রী খালেদ আল ফাদেল দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাকে এ বিষয়ে বলেন, বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে। এমনকি পণ্যটির দাম শূন্য ডলারে নেমে এসেছে। ফলে দায়িত্ববোধ থেকেই পণ্যটির বাজার পরিস্থিতির প্রতি এমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে দেশটি।
নভেল করোনাভাইরাস প্রকোপের মধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা রেকর্ড কমে গেছে। এতে পণ্যটির আন্তর্জাতিক বাজার উদ্বৃত্ত সরবরাহে ভরে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে পণ্যটির বাজারে ভারসাম্য ফেরাতে আগামী মে ও জুনে ওপেক ও নন ওপেক দেশগুলো সক্ষমতার চেয়ে দৈনিক গড়ে ৯৭ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন কমিয়ে আনার বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে খাতসংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্বাভাস করেছে, বাজারে চাঙ্গা ভাব ফেরাতে পণ্যটির উত্তোলন হ্রাসের এ পরিমাণ যথেষ্ট নয়। কারণ কভিড-১৯-এর জেরে এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের চাহিদা দৈনিক গড়ে তিন কোটি ব্যারেল কমে গেছে।
সৌদি আরব, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর কুয়েত ওপেকের চতুর্থ বৃহত্তম অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশ। জ্বালানি তেলের বাজারসংক্রান্ত সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে ওপেক জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চে কুয়েত দৈনিক গড়ে ২৮ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছিল, আগের মাসের তুলনায় যা ১ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল বেশি। মূলত ওই সময়ে বিদ্যমান চুক্তির সঙ্গে পণ্যটির উত্তোলন দৈনিক আরো ১৫ লাখ ব্যারেল কমিয়ে আনার বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে মতানৈক্য দেখা দেয় ওপেকের। এতে ওপেকের নতুন চুক্তি ভেস্তে গেলে পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের মতো কুয়েতও ইচ্ছামতো জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন ও সরবরাহ বাড়াতে শুরু করেছিল।