স্টাফ রিপোর্টার॥ যশোরে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত স্বাস্থ্যকর্মীকে (৩৫) মণিরামপুর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে করোনা আক্রান্ত তার শ্যালককে (২২) নিজ বাড়ি কেশবপুরের ইমাননগরে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে এদের স্থানান্তর করা হয়। কেশবপুরের ওই তরুণ (স্বাস্থ্যকর্মীর শ্যালক) মণিরামপুর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি ছিলেন। আর তার ভগ্নিপতিকে ১৪ দিন কেশবপুরের ইমাননগরে শ্বশুরবাড়িতে আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল। শনিবার দুপুরে ওই দুইজনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে ফের যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জেনোম সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
চলতি মাসের ১২ এপ্রিল মণিরামপুরের ওই স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে করোনা ধরা পড়ে। এরপর তিনি শ্বশুরবাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সেখানে শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালক, নানিশাশুড়ি, স্ত্রী ও শিশুসন্তানের সঙ্গে এক বাড়িতে ছিলেন তিনি। পরে ওই স্বাস্থ্যকর্মীসহ ওই বাড়ির সবার নমুনা সংগ্রহ করে পরীাগারে পাঠানো হয়। গত ২৩ এপ্রিল স্বাস্থ্যকর্মীর দ্বিতীয় দফার নমুনা পরীার ফলাফলও পজেটিভ আসে। একইদিন তার শ্যালকেরও করোনা আক্রান্তের খবর আসে। ওই দিনই সন্ধ্যায় স্বাস্থ্যকর্মীর শ্যালককে মণিরামপুর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও দশম শ্রেণির ওই ছাত্র কার্যত উপসর্গবিহীন। এদিকে কেশবপুর হাসপাতালে ভর্তি না করিয়ে সেখানকার করোনা রোগী মণিরামপুর হাসপাতালে আনায় এবং এই তরুণকে হাসপাতালের বিচ্ছিন্ন একটি ভবনের নির্জন কে একা রাখায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সমালোচনার মুখে শনিবার তাকে কেশবপুরে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপ। শনিবার ওই তরুণের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আমি সুস্থ আছি। আমার দেহে কোনো করোনা উপসর্গ নেই। নির্জন একটি ঘরে রাতে একা থাকতে খুব ভয় পাচ্ছি। আগে কখনো এভাবে একা থাকিনি। হাসপাতালে আমাকে টেলিভিশন দিতে চেয়েছিলেন কর্তৃপ। আমি নিইনি। নামাজ ও কোরআন পড়ে আমার সময় কেটেছে। আমি কোরআনে হাফেজ। হেফজ শেষ করে স্থানীয় একটি মাদরাসায় দশম শ্রেণিতে পড়ছি।’ মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শুভ্রারানী দেবনাথ বলেন, ‘সিভিল সার্জন স্যারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই তরুণকে মণিরামপুর হাসপাতালে আনা হয়েছিল। আবার স্যারের নির্দেশেই তাকে কেশবপুরের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলবে। তার ভগ্নিপতি স্বাস্থ্যকর্মীকে মণিরামপুর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে আনা হয়েছে। আজ শ্যালক-ভগ্নিপতি দুইজনের শরীর থেকে আবার নমুনা সংগ্রহ করে সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। তারা দুইজনই সুস্থ আছেন।’





