যশোর শহরে গৃহবধূসহ চিকিৎসাধীন তিনজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ জন করোনা কোভিড-১৯ সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে। এদের ভেতর যশোর শহরের খড়কি এলাকার এক গৃহবধূ ঝিকরগাছা উপজেলার বামনআলী গ্রামের এক যুবতী ও শার্শা উপজেলার গোবরা গ্রামের এক যুবক রয়েছেন। হাসপাতালের কোয়ারেন্টিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ এপ্রিল ১৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে তা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টারে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে ৩ জনের রিপোর্ট করোনা পজেটিভ আসে। এ পর্যন্ত ৩শ’ ৩৯ জনের মধ্যে ১৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন কোভিড-১৯ সংক্রমণে। আক্রান্তদের মধ্যে ৪ জন স্বাস্থ্যকর্মী। যশোরের শার্শায় ২ জন, ঝিকরগাছায় ১ জন এবং মনিরামপুরে ১ জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। তাদেরকে হোম আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ির লোকজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
যশোর সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, গত ২৩ এপ্রিল ২১টি ও ২৪ এপ্রিল ২৫টি মিলে মোট ৪৬টি কোভিড-১৯ সংক্রমণ সন্দেহে নমুনা পাঠানো হয়েছিল। ২১টির ভেতর ৩টি এবং ২৫টির ভেতর ৬টি মিলে মোট ৯ জন করোনায় আক্রান্ত বলে রিপোর্ট আসে। বাকীগুলো করোনামুক্ত। সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, গতকাল পাওয়া রিপোর্টে কোভিড-১৯ সংক্রমণে আক্রান্তদের ভেতর ঝিকরগাছায় একজন স্বাস্থ্যকর্মীসহ ৩ জন, চৌগাছায় ১ জন, শার্শায় স্বাস্থ্যকর্মীসহ ২ জন, যশোর সদর উপজেলার ২ জন এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। শ্যামনগরের ওই ব্যক্তির নমুনা শার্শা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। আক্রান্ত ৯ জনের ভেতর ৫ জন নারী ও ৪ জন পুরুষ। পুরুষের ভেতর ১ জন কিশোর। ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মহিলা পেয়িং বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন টুম্পা (২০)। গত ২২ এপ্রিল তাকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের পেয়িং বেডে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসক, সেবিকা, কর্মচারী এবং ওয়ার্ডে থাকা রোগীরা তার সংস্পর্শে আসেন। এছাড়া টুম্পা হাসপাতালের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। পরীক্ষা না হওয়ার কারণে তখন কেউ জানতেন না টুম্পা করোনা রোগী। দু’দিন ওই ওয়ার্ডে থাকার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার নমুনা সংগ্রহ করে এবং পরীক্ষার জন্য ল্যাবে প্রেরণ করে। এরপর গতকাল রিপোর্ট আসার পর তাকে দ্রুত বক্ষব্যাধি (টিবি) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। টুম্পা ঝিকরগাছা উপজেলার বামনআলী গ্রামের শামসুল হুদার কন্যা। তিনি ঢাকার নারায়ণগঞ্জে একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন। দু’সপ্তাহ আগে বাড়িতে আসেন।
অপরদিকে, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাহাঙ্গীর হোসেন (২৬) কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রমাণিত হয়। জাহাঙ্গীর হোসেন শার্শার গোবরা গ্রামের মারুফ হোসেন পুত্র। রাজমিস্ত্রির জোগালে হিসেবে কাজ করেন তিনি। অসুস্থজনিত কারণে ২৪ এপ্রিল তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়। টুম্পার সাথে তারও নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ আসে। তাকে গতকাল দুপুর ২টায় যশোর টিবি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। এ নিয়ে গতকাল যশোর টিবি হাসপাতালের আইসোলেশনে প্রথম ২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ভর্তি করা হলো। এদিকে, সেখানে ভর্তি করার পর খাদ্য সংকট দেখা দেয়। তখন একজন সেবিকা নিজের খাবার ওই দু’জন করোনায় আক্রান্ত রোগীকে দেন। এ ব্যাপারে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায়ের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, প্রথমদিন একটু খাবারের সমস্যা হয়েছে। আমরা খাবার কিনে দিতে বলেছি। এরপর যথানিয়মে খাবার পাবে। এদিকে, হাসপাতালের মহিলা পেয়িং ওয়ার্ডে করোনায় আক্রান্ত টুম্পার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে বেড়ানোর বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখি। তারপর হাসপাতালে ভর্তি ওই রোগী এবং চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হবে। এদিন ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আইসোলেশনে ৫ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ১০ জন মিলে মোট ১৫ জন কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। এছাড়া জেলায় হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন মোট ৪ হাজার ৫শ’ ৬০ জন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪শ’ ৬৮ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়।

ভাগ