‘সরকারের একলা চলো নীতির কারণে করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে জনগণ’

লোকসমাজ ডেস্ক॥ সরকারের একলা চলো নীতির কারণেই জনগণ করোনাভাইরাসের প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসকে প্রতিরোধ করার জন্য যে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল তা নিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এককথায় তারা (সরকার) করোনাভাইরাসকে মোকাবিলা করতে গিয়ে পুরোপুরিভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দুপুরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন সময়ে গুম-খুন হওয়া এবং নির্যাতিত পরিবারের সদস্যদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার প্রদানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি। ছাত্রদলের নিহত তিন নেতা নুর আলম, নুরজ্জামান, ও মাহবুবুর রহমান বাপ্পীর পরিবারের হাতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ঈদ উপহার তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের আন্তরিক হয়ে যেভাবে এগিয়ে আসার কথা ছিল সেটাতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। আমরা প্রথম থেকে লক্ষ্য করেছি তাদের মধ্যে প্রচণ্ড রকমের উদাসীনতা ছিল, অবহেলা ছিল। যেটা রিজভী সাহেব বলেছেন যে, তারা অন্য কাজে ব্যস্ত ছিল। আমরা জানি কী কাজে ব্যস্ত ছিল। তারা এটাকে প্রথম দিকে গুরুত্ব দেয়নি। যখন ঘাড়ের মধ্যে এসে পড়ে গেছে তখন এটাকে সামাল দেওয়ার মতো শক্তি তাদের ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, ‘করোনাভাইরাসে প্রমাণিত হয়েছে যে, তাদের যে শাসনব্যবস্থা সেটা কতটা ভঙ্গুর। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে গেছে। সাধারণ রোগীরা যাদের ক্যান্সার হয়েছে, যাদের হয়ত ক্যান্সার বা টিবি আছে বা যাদের এপেন্ডিসাইটিস রয়েছে তারা কোনও চিকিৎসা পায় না।’ করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জনসচেতনতা সৃষ্টিসহ বিএনপির বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য লিফলেট বিলি করেছি, মাস্ক বিতরণ করেছি। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও ড্যাব চিকিৎসক-স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য পিপিই দিয়েছি, হটলাইন চালু করেছে রোগীদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য।’
তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রী সাহেব আমাদেরকে গালিগালাজ করেছেন। বলেছেন, আমরা নাকি শুধুমাত্র কথাই বলছি, কোনও কাজ করছি না। বিরোধী দল হিসেবে ১২/১৩ বছর তাদের নির্যাতনের পরেও আমরা যে কাজটুকু করেছি আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি যে, আমরা তাদের দল থেকে অনেক বেশি কাজ করেছি। ইতিমধ্যে আমরা ৭ লাখ পরিবারের কাছে আমরা ত্রাণ পৌঁছিয়ে দিয়েছি। প্রতিদিনই এই সংখ্যা বাড়ছে এবং এটা আরও বাড়বে।’ সরকারের প্রতি আহ্বান রেখে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখন রাজনৈতিক বিতর্কের সময় নয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সময় নয়। অহংকার এবং আত্মম্ভরিতা বাদ দিয়ে আসুন সমগ্র জাতিকে আমরা ঐক্যবদ্ধ করি, ঐক্যবদ্ধ করে সমগ্র জাতিকে করোনাভাইরাসের যে আগ্রাসন সেই আগ্রাসন মোকাবিলা করার জন্য আমরা চেষ্টা করি। সেই উদ্যোগ আপনারা গ্রহণ করুন।’ গত ১২/১৩ বছর সরকারের দমননীতির কারণে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর যে নির্মম নির্যাতন ঘটেছে তার বর্ণনা তুলে ধরে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ফখরুল। সারাদেশে গুম-খুন-নির্যাতনে নিহত সহস্রাধিক নেতাকর্মীর পরিবারের কাছে এই উপহার পৌঁছিয়ে দেয়া হবে বলে জানান তিনি। বিএনপির নির্বাহী সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলালের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা রিয়াজ উদ্দিন নসু, ইশরাক হোসেন, আমিনুল ইসলাম, আতিকুর রহমান রুমন, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের ইয়াসীন আলী, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, নাজমুল হাসান, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের শায়রুল কবির খানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

ভাগ