খুলনা ব্যুরো॥ করোনার প্রভাবে খুলনা ও যশোরের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯ পাটকলের ৩০ হাজার শ্রমিক পরিবারে খাদ্য সংকটে চরম হতাশায় দিনযাপন করছেন। রাষ্ট্রায়াত্ত জুট মিল শ্রমিকদের গড়ে ১৩ সপ্তাহের মজুরি পাওনা রয়েছে। অপরদিকে কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের তিন মাসের বেতন বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় খাদ্য ও কৃষি বিভাগে চটের বস্তার সংকট নিরসনে আগামী রবিবার (২৬ এপ্রিল) থেকে পাটকল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আগামী ৩০ এপ্রিল ২ মাসের বেতন ও মজুরি প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। করোনার কারণে মিলগুলোতে উৎপাদন ও রফতানি বন্ধ হওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিলগুলোর ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) সূত্র জানায়, ২০১৪-১৫ অর্থ বছর থেকে ২০১৮-১৯ অর্থ বছর পর্যন্ত মাত্র চার বছরে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯ জুট মিলে এক হাজার ৪৭৫ কোটি ৫৭ লাখ ১৫ হাজার টাকার লোকসান হয়েছে।
এ দিকে নিজেদের দুর্দশার কথা জানিয়ে আলীম জুট মিলের শ্রমিক মন্টু মিয়া বলেন, ‘অনাহারী শ্রমিকদের খবর কেউ নেয় না। মজুরি পাই না ১৪ সপ্তাহ। আর কতো কষ্ট করে চলবো, ঘরে গেলে স্ত্রী সন্তানদের মুখের দিকে তাকাতে পারি না।’ ইস্টার্ন জুট মিল শ্রমিক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘১২ সপ্তাহের মজুরি পাওনা রয়েছে। আমরা কিভাবে চলবো। ছেলে মেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। পিতা হয়ে আমি আর এই দৃশ্য সহ্য করতে পারছি না।’ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ ও নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুরাদ হোসেন জানান, করোনার কারণে মিলগুলো বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা মজুরি না পাওয়ায় আর্থিক তির মুখে পড়ছেন। পাশাপাশি উৎপাদন ও রফতানি বন্ধ থাকায় সার্বিক পরিস্থিতি অনিশ্চিয়তার মুখে পড়েছে। এ অবস্থার মধ্যে আগামী রবিবার থেকে পাটকলগুলো স্বল্প পরিসরে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর ৩০ এপ্রিল দুই মাসের বেতন ও মজুরি প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে মিলগুলোতে চালুর কথা জানলেই বিভিন্ন স্থানে থাকা শ্রমিকরা শিল্পাঞ্চলের দিকে আসবে। যা চলমান করোনা পরিস্থিতির জন্য ভয়ানক। বিজেএমসি খুলনা জোনাল সমন্বয়কারী বনিজ উদ্দিন মিয়া বলেন, ‘খাদ্য ও কৃষি বিভাগের জন্য চটের বস্তার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই এ সংকট মোকাবিলায় স্বল্প পরিসরে পাটকল চালুর পরিকল্পনা হয়েছে। আগামী রবিবার থেকেই পাটকল চালু হতে পারে। স্থানীয় শ্রমিকরাই কাজে যোগদান করবেন। লকডাউন এলাকার শ্রমিকরাতো এলাকার বাইরে বের হতে পারবে না। তাই সমস্যা হবে না। আর শ্রমিকরা মাস্ক পরে স্বাস্থ্য বিধি মেনেই সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে কাজে যোগ দিবে। এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও বৈশাখী ভাতা আগামী ২৬ এপ্রিল পরিশোধ, বদলি পাটকল শ্রমিকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া, সকল শ্রমিক পরিবারকে ছয় মাসের রেশন দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট খুলনা জেলা শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার প্রতিকী মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।





