কলারোয়ায় মেয়ের প্রেমিককে পিটিয়ে মারার ঘটনায় হত্যা মামলা

কে এম আনিছুর রহমান,কলারোয়া (সাতক্ষীরা) ॥ সাতক্ষীরার কলারোয়ায় মেয়ের প্রেমিককে পিটিয়ে মারার ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ্যসহ আরো ৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে নিহতের বাবা উপজেলার যুগীখালী ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের বজলুর রহমান শেখ বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। এদিকে ওই ঘটনায় আসামী মেয়েটির মা আসমা খাতুন, দাদা রিয়াজউদ্দীন ও প্রতিবেশী চাচা ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে, পলাতক রয়েছে মেয়েটির পিতা কামরুল ইসলাম, চাচা ওহিদুজ্জামান পিন্টুসহ অন্যরা।
মামলার বিবরণ ও থানা পুলিশ সূত্র জানায়, উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের কামরুল ইসলামের মেয়ে সায়মা জামান ময়না (১৬) এর সাথে একই গ্রামের বজলুর রহমান শেখের ছেলে তুষার হোসেন জনির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ময়না পার্শ্ববর্তী দেয়াড়া ইউনিয়নের খোরদো ছালেহা হক বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্রী ও তুষার ওরফে জনি ঢাকা পলিটেকনিক কলেজের সিভিল ডিপার্টমেন্টের ২য় বর্ষের ছাত্র। গত বুধবার (২২ এপ্রিল) গভীর রাতে ময়না তুষারের সাথে মোবাইল ফোনে প্রেমালাপ করছিলো। বিষয়টি জানতে পেরে মেয়ের বাবা কামরুল ইসলাম মেয়েকে মারপিট করে। এক পর্যায়ে ওই রাতেই মেয়ে ময়নাকে দিয়ে মোবাইল ফোনে তুষারকে ঘরের পেছনের রাস্তায় দেখা করার করার জন্য আসতে বলে। প্রেমিকার কথা মতো রাত সাড়ে ১২টার দিকে তুষার সেখানে যাওয়া মাত্রই ময়নার বাবা কামরুল, চাচা বাসারুল, পিন্টু, রিন্টুসহ মামলার আসামীরা তুষারকে লাঠি ও রড দিয়ে মারপিট করে। এসময় প্রেমিক তুষার জ্ঞান হারিয়ে ফেললে মামলার বাদি তুষারের বাবাকে ডেকে আনা হয়। ওই রাতে রাস্তা থেকে অচেতন ছেলেকে নিয়ে তিনি সাতীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তুষারের মৃত্যু হয়।
ঘটনার প্রত্যদর্শী তুষারের বন্ধু পাইকপাড়া গ্রামের খলিল মোড়লের ছেলে জিসান (২৪) জানায়- ময়নার হঠাৎ ফোনে তুষার জানায়, রাতে ঘরের পেছনের রাস্তায় দেখা না করলে সে (ময়না) আত্মহত্যা করবে। এসময় তুষার তাকে সাথে নিয়ে ময়নার সাথে দেখা করতে যায়। ময়নাদের ঘরের পেছনে যাওয়া মাত্রই ময়নার বাবা ও চাচারা মারপিট শুরু করে। এসময় সে (জিসান) যুগীখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দিকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। সে আরো জানায়, তুষারের সাথে ময়নার তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিলো।
কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মুনীর-উল-গীয়াস জানান, এ ঘটনায় শেখ বজলুর রহমান বাদি হয়ে ১০ জনের নামে কলারোয়া থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-১৮) দায়ের করেছেন। তিনি আরো বলেন, এঘটনায় এক ইউপি সদস্যসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার কৃতদের শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ অন্য আসামীদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এস আই) তৌফিক আহম্মেদ জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। নিহতের ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার বিকালে করোনা পরিস্থিতির কারণে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে জানাজা নামাজ শেষে তাকে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে মেয়েটির বাবা কামরুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে (নং-০১৭১১-৩৭৯৪৯৩) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের শেখ বজলুর রহমানের ছেলে নিহত তুষার হোসেন জনি যুগিখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ.সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানিয়েছেন কলারোয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তাওফিকুর রহমান সনজু। একই সাথে সে কলারোয়া কাবের ঢাকাস্থ ইউনিটের অন্যতম সদস্য বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতা এসএম মোস্তাক আহমেদ। এ ঘটনায় উভয় সংগঠনের প থেকে গভীর শোক, শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

ভাগ