স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে গত দুদিনে ৩ জন মাদকসেবীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। এর মধ্যে দুজন অতিরিক্ত মদ পানে মারা গেছেন। বিষাক্ত মদ পানে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অপর মাদকসেীর বাসায় পেথেডিনের খালি অ্যাম্পুল পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। শুক্রবার দুপুরে শহরের বেজপাড়ার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে নান্টু নামে (৩৫) এই মাদকসেবীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই জিয়াউর রহমান জানান, নান্টু শহরের মাড়–য়া মন্দির সংলগ্ন হাসানের মদের দোকানের কর্মচারী। সে একজন যৌনকর্মীর ছেলে। বেজপাড়ায় পৌর কাউন্সিলর সন্তোষ বাড়ির পাশের জনৈক মাহমুদুল হক বিশারতের বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানে একাকি বসবাস করতেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পান নিজ ঘরে নান্টুর মৃতদেহ পড়ে আছে। এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দেন। লাশের ময়নাতদন্ত হবে।
থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড কমিউনিটি পুলিশিং) সুমন ভক্ত জানান, নান্টু মাদকসেবী ছিলেন। তিনি পেথেডিন ইনজেকশন নিতেন বলে জানতে পেরেছেন। লাশ উদ্ধারের সময় তার ঘরে পেথেডিনের খালি অ্যাম্পুল পাওয়া গেছে। এর আগেরদিন যশোরে ফজলুর রহমান চুক্কি (৫০) এবং মনি বাবু (৪৫) নামে আরো দুজন মাদকসেবী অতিরিক্ত মদ পানে মারা গেছেন। তবে মদ পানে এই দুজনের মৃত্যুর খবর পুলিশ জানেনা বলে জানিয়েছেন ইনসপেক্টর সুমন ভক্ত।
অতিরিক্ত মদ পানে মৃত্যুবরণকারী ফজলুর রহমান চুক্কি শহরতলীর ঝুমঝুমপুর মান্দারতলা এলাকার শাখাওয়াত হোসেনের ছেলে। তিনি একজন চিহ্নিত গাঁজা ব্যবসায়ী। তার স্ত্রীও গাঁজা ব্যবসায়ী। ওই এলাকা একজন ছাত্রলীগ নেতা জানান, চুক্কি তিন দিন ধরে নিজ ঘরে বসে মদ পান করে আসছিলেন। বাইরের থেকে লোকজন এসে তাকে মদ সরবরাহ করতেন। অতিরিক্ত মদ পানের কারণে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চুক্কি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, বিকেল ৪টায় ভর্তির পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি মারা যান। অতিরিক্ত মদ পানে অপর মৃত্যুবরণকারী মনি বাবু শহরের গরীব শাহ রোডের মরহুম মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক চিশতির ছেলে। বর্তমানে তিনি ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের জনৈক ফিরোজের বাড়িতে থাকতেন। তার স্ত্রী হিরা খাতুন সাংবাদিকদের জানান, গত মঙ্গলবার রাতে তার স্বামী মনি বাবু মদ পান করেন। কিন্তু পরদিন বুধবার রাতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সাথে সাথে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার ভোরে তিনি মারা যান। হাসপাতালের চিকিৎসক আজিজুর রহমান জানান, মদের বিষক্রিয়ার কারণে মনি বাবুর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার দুপুরে শহরময় রটে যায় মাড়–য়ারি মন্দির সংলগ্ন যৌনপল্লী এলাকায় অতিরিক্ত মদ পানে কয়েকজনের মৃতু হয়েছে। ট্রাকে করে সেই সব মানুষের লাশ গোপনে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। তবে পরে ওই এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার সেখানে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, গত বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে আব্দুর রশিদ নামে এক ব্যক্তিকে যৌন পল্লীর সামনের একটি ভবন থেকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখেছেন। তবে তিনি কী কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তা জানতে পারেননি। অপর একটি সূত্র জানায়, আব্দুর রশিদের বাড়ি বারান্দী মোল্লাপাড়ায়। তিনিও মদের দোকানের কর্মচারী।





