সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে যশোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ন আলোচনা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দায়িত্ব পাওয়ার যশোরে এসেই প্রথম দিনে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। শুক্রবার যশোর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে সকাল ১১ টা থেকে প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী বিরতিহীন এ বৈঠক করেন। যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শফিউল আরিফের সঞ্চালনায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সরকারের প্রতœতত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. হান্নান মিয়া।
দেশের বর্তমান ক্রান্তিকালে করোনা সংকট মোকাবেলায় ত্রাণ কাজে সু-সমন্বয়ের ল্েয গতন ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হতে ৬৪ জেলার জন্যে ৬৪ জন সচিব-সমমানের কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এরই অংশ হিসেবে যশোর জেলার দায়িত্ব পান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোঃ আবু হেনা মোস্তফা কামাল (এনডিসি)। এ দায়িত্ব পাওয়ার পর গতকাল যশোরে এসে প্রথম দিন সরকারি সকল দপ্তরের কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেন। এসময় বৈঠকে অংশ নেয়া বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও সংস্থার প্রতিনিধিরা করোনা সংকটকালে ত্রান বিতরণে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের মতামত তুলে ধরেন। যশোরের পুলিশ সুপার মো. আশরাফ হোসেন, সেনাবাহিনীর যশোর ইউনিটের ইনচার্জ লে. কর্ণেল নেয়ামুল ইসলাম, যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. আকতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন, ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক দিলীপ কুমার রায়সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা করোনা যশোরের পরিস্থিতিসহ ত্রান বিতরণের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন।
বৈঠকে যশোরের সিভিল সার্জন তার মতামতে বলেন, এ যাবৎ যশোর থেকে ৩৫০ জনের করোনা আক্রান্ত সন্দেহে নমুনা পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত ২৮৬ জনের প্রাপ্ত ফলাফলে ০৬ জনের দেহে করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে। এই ০৬ জনের সবাইকে বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া গত ৬ এপ্রিল থেকে এ যাবত ভারত থেকে ১১৯০ জন যাত্রী বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে যশোরে প্রবেশ করেছেন। এদের মধ্যে ৬১৩ জনকে শার্শা পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও ঝিকরগাছা গাজীর দরগা মাদ্রাসায় প্রাতিষ্ঠানিব কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। অনান্যদেরকে হোম কোয়ারেন্টিনে এবং জ্বর সন্দেহে কয়েকজনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। বৈঠকে যশোর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোভিডের আক্রমণ মাত্রা বেড়ে গেলে সেটা মোকাবেলায় বেসরকারি তিনটে হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে ১০০ শয্যার অস্থায়ী কোভিড হাসপাতাল অচিরেই কাজ শুরু করতে পারবে। সেনাবাহিনীর অস্থায়ী হাসপাতালের জন্যে বাড়তি জনবল নিয়োগের আহবান জানানো হয়। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে যশোরের ২৫০ শয্যার হাসপাতালের পুরোটাকে কোভিড আক্রান্তদের জন্যে ব্যবহার করা হবে এবং সেেেত্র অনান্য রোগীদেরকে বেসরকারি আদদ্বীন হাসপাতালে স্থান্তরের সিদ্ধান্ত রয়েছে সচিবকে অবহিত করা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, তার যশোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবের কাছে করোনা পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে দাবি তুলে ধরেন। বিশেষ কওে যশোরের স্বাস্থ্য সেবার সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের জন্যে অধিক সংখ্যক আসল এন-৯৫ মাস্ক, শ’খানেক সিলিন্ডার, করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে তাদের সৎকারের জন্যে ডেডবডি ব্যাগ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে সরকারি স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনা, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন চালাতে অর্থ বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয়ের চাহিদা তুলে ধরা হয়। বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তাদের মতামতের পর সবিচ আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে যেভাবে শত্রুবাহিনীকে পরাজিত করেছি, একইভাবে এবারে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জয়ি হবে। তিনি সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে কাজ করার আহবান জানিয়ে বলেন, চাল বা ত্রাণ চুরি ধরার চেয়ে চাল বা ত্রাণ যেন কোনভাবেই চুরি না হয়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, ক্রাইসিস বেশি হলে বা লকডাউন প্রলম্বিত হলে চুরি ছিনতাই বাড়তে পারে। তাই এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রাকারি বাহিনীতে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

ভাগ