মনিরামপুরে বিষাক্ত স্পিরিটপানে দুই জনের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর)॥ যশোরের মনিরামপুর পৌরশহরে বিষাক্ত স্পিরিট পানে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যু হয় মোক্তার আলী নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর। অপরদিকে মোমিন নামে এক ট্রেকার চালক অসুস্থ্য হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। চিকিৎসাধিন অবস্থায় শুক্রবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোসাব্বিরুল ইসলাম রিফাত।
জানাযায়, মনিরামপুর পৌরশহরের প্রভাতী বিদ্যাপিঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে(নদীরতীরে) বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোক্তার হোসেন অরফে গাঁজা মোক্তার এবং মৃত আবদুর রাজ্জাকের ছেলে ট্রেকার চালক মোমিনসহ তিন ব্যক্তি স্পিরিট পান করে। স্পিরিট পানের পর পরই তারা তিনজনই অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ঘটনাস্থলেই মোক্তার হোসেনের মৃত্যু হয়। গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় মোমিনকে উদ্ধারের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আর অজ্ঞাত পরিচয়ের অপর এক যুবক অসুস্থ্য অবস্থায় পালিয়ে গিয়ে অন্যত্র গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন। এ দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধিন অবস্থায় শুক্রবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ট্রেকার চালক মোমিনের মৃত্যু হয়। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোসাব্বিরুল ইসলাম রিফাত জানান, বিষাক্ত স্পিরিটের বিষক্রীয়ায় মোমিনের মৃত্যু হয়। এ দিকে মোমিনের বড় ভাই মনিরুজ্জামান অভিযোগ করেন তাদের বাড়ির পাশে আনোয়ার হোসেন নামে একজন হোমিও চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে মাদকসেবীদের কাছে স্পিরিট বিক্রী করে আসছিল। তার ধারনা আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে স্পিরিট কিনে পান করায় তার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ ঘটনার পর থেকে হোমিও চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। মনিরামপুর থানার এসআই জহির রায়হান জানান, মোক্তার হোসেন থানার তালিকা ভূক্ত একজন মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে থানায় অন্তত: ১৩/১৪ টি মামলা রয়েছে। সে কয়েকবার মাদকসহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল। ওসি(সার্বিক) রফিকুল ইসলাম জানান, স্পিরিট পানে দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। উল্লেখ্য ইতিপূর্বে মনিরামপুরে বিষাক্ত স্পিরিট পানে একজন ইউপি চেয়ারম্যানসহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়।

ভাগ