যশোরে ঢাকা নারায়নগঞ্জ থেকে অবাধে আসছে মানুষ, নির্বিঘেœ ঘুরছে

বিএম আসাদ ॥ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে যশোরে প্রবেশে বিধিনিষেধ দেওয়া হলেও তা যথাযথ কার্যকর হচ্ছে না। বরং অভিযোগ রয়েছে, প্রতিনিয়ত প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন পন্থায় যশোরের বাইরের জেলা থেকে মানুষ প্রবেশ করছে। এদের অল্প সংখ্যক লোক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টিতে পড়লেও অধিকাংশ লোকই অভিনব পন্থায় তাদের গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছে। ফলে যশোরে করোনা সংক্রমণের প্রবণতা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। দেশে করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার পর সারাদেশের ন্যায় যশোর জেলা প্রশাসনও নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ জেলায় করোনা সংক্রমণ ব্যাপকতা দেখা দেওয়ার পর যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শফিউল আরিফ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি জেলার বাইরের কোনো এলাকা থেকে কোনো মানুষ যাতে যশোরে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিধিনিষেধ জারি করেন। ওই আদেশে এখানে কাউকে প্রবেশ করতে হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও বা জেলা নিয়ন্ত্রণ করে নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে। তাহলে আমরা বুঝতে পারব, কোন এলাকায় কী ধরনের পদপে নিতে হবে। অন্তত ওই এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের কাছে তথ্য দিতে বলা হয়। জেলা নিয়ন্ত্রণ করে নম্বরগুলো হলো- ০১৩১৮-২৫২৯২৫, ০১৩১৮-২৫২৯৫০, ০৪২১-৭১০০০, ০৪২১-৭১০০১। কিন্তু এ নির্দেশনার পরও ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে করোনাভাইরাসের কমিউনিটি সংক্রমণ এলাকা থেকে মানুষ নানাভাবে যশোরে আসতে শুরু করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ যশোরে ফিরে আসছে। এদের অল্প সংখ্যক লোক মহাসড়কে চেকপোস্টের মাধ্যমে চিহ্নিত হলেও অধিকাংশই গোপনে বাড়িতে চলে যাচ্ছে। বিশেষ সবজি-মাছবাহী ট্রাক, পিকআপ ও অ্যাম্বুলেন্স করে এসব লোক যশোরে প্রবেশ করছে। তবে এদের অধিকাংশই মহাসড়ক এড়িয়ে গ্রামাঞ্চলের অলিগলি রাস্তা ধরে গন্তব্যে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান বলেন, করোনা সংক্রমণ থেকে যশোর জেলাকে রক্ষা করতে আমাদের পক্ষ থেকে যাবতীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, যশোরের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপের পর জেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইনসহ আমাদের নম্বরগুলোতে গ্রামাঞ্চল থেকে মানুষ প্রতিনিয়ত আমাদের কাছে ফোন দিয়ে তথ্য দিচ্ছে। জেলার বাইরে থেকে কেউ যশোরের কোনো এলাকায় প্রবেশ করে অবস্থান করার পর তা আমরা সহজেই জেনে যায়। এরপর ওই লোককে চিহ্নিত করে তাকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। তিনি বলেন, যশোরের যেসকল মানুষ বর্তমান কোয়ারেন্টিনে আছেন বা কোয়ারেন্টিন শেষ করেছেন তার অধিকাংশই বাইরে থেকে আসা। এসব মানুষকে চিহ্নিত করে আমরা তাদেরকে কোয়ারেন্টিনে নিতে সক্ষম হয়েছি। এ বিষয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মোহাম্মাদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে যশোরে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের বিষয়ের পাশাপাশি ঢাকা-নারায়নগঞ্জসহ বাইরে থেকে যশোরে যেসকল মানুষ প্রবেশ করছে সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার রয়েছে। বিশেষ করে যশোর-মাগুরা রোড দিয়ে যেসকল মানুষ প্রবেশ করছে তাদেরকে চিহ্নিত করে স্ব স্ব এলাকার নির্বাহী অফিসার ও থানাকে অবহিত করা হচ্ছে। এরপর সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসন তাদেরকে হয় কোয়ারেন্টিনে বা বাড়িতে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি যশোর-মাগুরা রোড দিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে যেসকল লোক যশোরে প্রবেশে করেছে তাদের একটি তালিকা যশোরের জেলা প্রশাসকের কাছে পুলিশের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ভাগ