পিচ্চি বাবুর চাঞ্চল্যকর তথ্য : ‘রাসেলের ঘাড়ে কোপ মারে এনামুল…॥ নির্দেশনা দেয় শহিদ ও লিটন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘রাসেলের ঘাড়ে কোপ মারে এনামুল। আর আমি দা দিয়ে আল-আমিনকে কোপায়। শামিরুলও তাকে কোপ দেয়। এই মারামারির দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন শহিদ ও লিটন।’ যশোর সদর উপজেলার বালিয়া ভেকুটিয়া গ্রামে বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের নেতা সাব্বির আহমেদ রাসেল হত্যা মামলায় আটক পিচ্চি বাবু আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর এমন তথ্য জানিয়েছে। গত বুধবার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহাদী হাসানের আদালতে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। মাহাবুব হোসেন ওরফে পিচ্চি বাবু বালিয়া ভেকুটিয়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। সে রাসেল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি। গত ২১ এপ্রিল রাতে চৌগাছা উপজেলার মাড়–য়া গ্রাম থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, আদালতে দেয়া পিচ্চি বাবুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে রাসেল খুনের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। বেরিয়ে এসেছে হত্যাকা-ে জড়িত আরো কয়েকজনের নাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিচ্চি বাবু আদালতে দেয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছে, ‘গত ১৫ এপ্রিল রাত নয়টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তারা ২০/২২ জন ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় সেখানে দোকানে বসা দুজনকে জিআই পাইপ নিয়ে বসে থাকার কারণ জানতে চায় এবং মারধর করে। এরই এক পর্যায়ে রাসেল ও আল-আমিনসহ অনেকে দা ও লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। ফলে সে (পিচ্চি বাবু) দা দিয়ে আল-আমিনকে কোপায়। শাহারুলও তাকে কোপ দেয়। আর এনামুল রাসেলের ঘাড়ে কোপ দেয়। এর ফলে রাসেল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় তারা (পিচ্চি বাবু গং) পাবলিক আসার আগেই দৌড়ে পালিয়ে যায়।’ জবানবন্দিতে সে আরো বলেছে, শহিদ ও লিটনের দিক নির্দেশনায় তারা (পিচ্চি বাবু গং) মারামারি করে। লিটন এ জন্য শামিরুলের মাধ্যমে তাদেরকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলো। ওই টাকা পাওয়ার পর সেসহ শামিরুল, এনামুল, সোহেল, সগির, সোহাগ, আমির, সেলিম, আনিস, জনি, সাব্বির, আজাদ, শান্ত, আশিক, হাসিব, শাহিন, শাকিব ও মনিরুল মারামারিতে অংশ নিয়েছিলো। এছাড়া তাদের সাথে নুরুন্নবী এবং হাবিবও (লিটনের ভাগ্নে) ছিলো। তবে খুন করা তাদের উদ্দেশ্যে ছিলো না।
উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল রাতে বালিয়া ভেকুটিয়া শ্মশানপাড়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় রাসেল খুন এবং ভাই আল-আমিন আহত হন। এ ঘটনায় নিহতের পিতা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবু সালেক মৃধা যুবলীগ নেতা শহিদুজ্জামান শহিদসহ ২৪ জনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন।