এস এম মজনুর রহমান, মনিরামপুর (যশোর)॥ যশোরের মনিরামপুরে করোনা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত করোনা উপসর্গ সন্দেহে ৩২ জনের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার নতুন করে একজনের দেহে করোনা পজেটিভ সনাক্ত হয়েছে। প্রথম আক্রান্ত স্বাস্থ্য সহকারীর দেহ থেকে দ্বিতীয় দফার নমুনার রিপোটেও পজেটিভ বিদ্যমান রয়েছে। ওই স্বাস্থ্য সহকারীর ১৪ বছর বয়সী ছোট শ্যালক নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলো। মনিরামপুরে এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হলো দুইজন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই কিশোরকে উদ্ধারের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এ দিকে অধিকাংশ হাট-বাজারে শারিরীক দুরুত্ব না মানায় করোনা পরিস্থিতি যেকোন মুহুর্তে আরো অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অবশ্য সামাজিক ও শারিরীক দুরুত্ব বজায় রাখতে ইতিমধ্যে প্রশাসন বেশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে জনগনের সুবিধার্থে সামাজিক ও শারিরীক দুরুত্ব বজায় রাখার শর্তে হাট-বাজারের দোকান খোলার সময়সিমা দুপুর দুইটা পযর্ন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।
জানাযায়, মনিরামপুর থেকে করোনা উপসর্গ সন্দেহে একজন স্বাস্থ্য সহকারীসহ মোট ১১ জনের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয় গত ৮ এপ্রিল। ১২ এপ্রিল শুধুমাত্র ওই স্বাস্থ্য সহকারীর রিপোর্ট আসে পজেটিভ। তার পর থেকে প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা সংক্রামন রোধে কঠোর অবস্থানে নামেন। ওই স্বাস্থ্য সহকারীর সংস্পর্শে থাকায় দুইজন ডাক্তার, ৩৯ জন স্বাস্থ্য সহকারীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ৫০ জনসহ প্রায় দেড় শতাধীক ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। এছাড়াও লকডাউন করা হয় বেশ কয়েকটি এলাকার বাড়িঘর। কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশসহ কয়েকটি বাড়ি থেকে লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়েছে।
করোনা আক্রান্ত ওই স্বাস্থ্য সহকারীকে ১২ এপ্রিল থেকে কেশবপুর উপজেলার ইমাননগর গ্রামের শ্বশুর বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা:মোসাব্বিরুল ইসলাম রিফাত জানান, কোয়ারেন্টিনের প্রথম ধাপ সমাপ্তের পর বুধবার ওই স্বাস্থ্য সহকারী ছাড়াও তার শ্বশুরবাড়ির পাঁচজনের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে। বৃহস্পতিবার ওই পাঁচটি রিপোর্টের মধ্যে স্বাস্থ্য সহকারী এবং তার ছোট শ্যালকের দেহে করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: শুভ্রা রানী দেবনাথ এবং যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: দিলীপ রায় জানান, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গতকাল(বৃহস্পতিবার) বিকেলে ইমাননগর থেকে বিশেষ এ্যাম্বুলেন্সে করে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে করোনা আক্রান্ত ওই স্বাস্থ্য সহকারীকে তার শ্বশুরবাড়িতে রেখেই পূর্বের মত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ দিকে পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের দোকান সমুহে বিশেষ করে সকাল সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত মানুষের উপচেপড়া ভীড় হচ্ছে। সামাজিক তো দুরের কথা শারিরীক দুরুত্ব পর্যন্ত মানা হচ্ছেনা। এসব হাট-বাজারের হুড়োহুড়ি চিত্র দেখলে মনে হবে যেন ঈদের বাজার শুরু হয়েছে। যা রিতিমত করোনা ভিতির কারন হয়ে দাড়িয়েছে। আর এভাবে ভীড় লেগে থাকলে যেকোন মুহুর্তে করোনা সংক্রামন পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে সেনাসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থানে থেকে সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে অভিযানের পরপরই আবারো হাট-বাজারে মানুষের উপচেপড়া ভীড় হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী জানান, দিনরাত প্রশাসন কাজ করে চলেছেন জনসধারনকে সচেতন করতে। কিন্তু নাগরিকরা সচেতন না হলে কোন অভিযানই সফল হবেন্ াউল্লেখ করে তিনি আরো জানান, পবিত্র রমজান উপলক্ষে নাগরিকদের সুবিধার্তে সামাজিক ও শারিরীক দুরুত্ব বজায় রাখার শর্তে শুক্রবার থেকে দোকানপাট খোলা রাখার সময়সিমা সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে বাড়িয়ে বেলা দুইটা পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।





