ভুল চিকিৎসা যেন না হয়

0

ঢাকার একটি দৈনিক লিখেছে চলমান মহামারীর সময়ে ঘরে থাকার জন্য বার বার তাগিদ দেয়া হচ্ছে। ঘরে থেকে রোগ সংক্রমণ এড়ানোর স্বার্থেই দফায় দফায় ছুটি বাড়িয়ে এক মাস পর্যন্ত ছুটি বর্ধিত হয়েছে। বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ এর এই সময়ে ব্যক্তিগত চেম্বার বন্ধ রেখেছেন দেশের অধিকাংশ চিকিৎসক। অনেক হাসপাতালে জ্বর, সর্দি-কাশির রোগীকে ভর্তি নেয়া হচ্ছে না। এতে প্রায়ই বিপাকে পড়ছেন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া বা আগে থেকে জটিল অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত মানুষ। এ অবস্থায় বাসায় বসে চিকিৎসা পরামর্শ দেয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের সংবাদ সমাজের জন্যে অত্যন্ত স্বস্তিকর ও গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় টেলিভিশন বিটিভি করোনাক্রান্ত রোগী শনাক্তের পরপরই সরাসরি ও রেকর্ডকৃত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষের কাছে স্বাস্থ্য পরামর্শ পৌঁছে দিচ্ছে। বেসরকারী একাধিক টিভি চ্যানেলও অনুরূপ উদ্যোগ গ্রহণ করে মানুষের সাধুবাদ পেয়েছে। শুধু ইলেকট্রনিক মিডিয়া নয়, দুয়েকটি প্রিন্ট মিডিয়াও টেলিফোনে স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এসব দরকারী উদ্যোগের ভেতর ভার্চুয়াল হাসপাতালের কথাও ইদানীং শোনা যাচ্ছে। টেলিফোনে চিকিৎসা পরামর্শ দেয়ার রীতি, যা টেলিমেডিসিন নামে পরিচিত সেটি সীমিত পর্যায়ে হলেও এ দেশে বেশ ক’বছর আগে থেকেই চালু করেছে একাধিক কিনিক। এমনকি ব্যক্তিগত পর্যায়ে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক তার ব্যক্তিগত চেম্বার থেকেও ফোনে বা ভিডিওর মাধ্যমে ব্যবস্থাপত্র দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এর ভেতর আশা জাগাচ্ছে ভার্চুয়াল হাসপাতাল। সরাসরি চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার সেবা ‘ভার্চুয়াল হসপিটাল’ এর উদ্বোধনও করা হয়েছে কয়েকদিন আগে। বতর্মান সময়ে এ হাসপাতালে মিলবে বিনা খরচে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ সেবাটি উদ্বোধন করেন। তিনি এ সময় বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের জনগণকে ঘরে বসে নাগরিক সেবা দিতে প্রযুক্তি ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। সে ল্েয সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
ঘরে বসে এই ভার্চুয়াল হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ফেসবুকে ঢুকে ‘আমার ল্যাব’ (অসধৎখধন) লিখে সার্চ করতে হবে আগ্রহী ব্যক্তিকে। এরপর ‘সেন্ড মেসেজ’ অপশনে কিক করলে ‘গেট স্টার্টেড’ বাটন আসবে। এতে কিক করলে চ্যাট বক্সে চিকিৎসকের পরামর্শ ও ডায়াগনস্টিক সার্ভিসেস নামে দুটি অপশন আসবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে চাইলে ওই সময় যেসব চিকিৎসক সেবা দেয়ার জন্য প্রস্তুত তাদের নামের তালিকা ও ছবি আসবে। এরপর পছন্দের চিকিৎসকের ‘গেট এ্যাপয়েন্টমেন্ট নাও’ লেখা অপশনে কিক করলে ভিডিও মাধ্যমে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া যাবে। এ ধরনের উদ্যোগ সাধুবাদযোগ্য। এদিকে, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইউএইচডিপি-ও রাজধানীতে একটি হটলাইন চালু করেছে, যেটিতে কলের মাধ্যমে করোনা আক্রান্ত রোগীসহ সব ধরনের রোগী যাতে স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে সে ব্যাপারে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। আমরা এই ক্রান্তিকালে সহযোগী দৈনিকের আশা জাগানিয়া লেখনীর জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি, চিকিৎসাহীন প্রায় অবস্থায় চিকিৎসার এই ব্যবস্থা অনেক প্রাণ বাঁচাতেও পারে। তবে প্রশ্নের বিষয় হচ্ছে যে চিকিৎসকরা চেম্বাওে উল্টে-পাল্টে রোগী দেখা ও সরাসরি শোনার পর রোগ নির্ণয়ে হাফ ডর্জন পরীক্ষা করান ্বংে তারপরও অনিশ্চয়তায় ভুগে একজন ওষুধ লেখেন তারা মোবাইল ফোনে শুনে সঠিক চিকিৎসা দিতে পারবেন কি-না। যদি কারো চিকিৎসা ভুল হয়ে কারো ক্ষতি হয়ে যায় তাহলেএই মহৎ আয়োজনের শেষ ফল কী হবে। রুগ্ন মানুষের আস্থা ভেঙে যে ভীতিকর অবস্থা হবে তাতে ঘওে বসে চিকিৎসার আয়োজনটাই শেষ হয়ে যাবে। আমাদেও এ আশঙ্কার কারণ নিশ্চয় ব্যাখার প্রয়োজন নেই। আমরা তাই বলতে চাই ঘওে বসে চিকিৎসার জন্য সমস্যা শুনে চিকিৎসা দিতে সক্ষম চিকিৎসকদের একটি তালিকা করে তাদের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হোক। একই সাথে রোগী ও চিকিৎসকের বক্তব্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা কওে কেউ যেন কারো অন্যায় ক্ষতি করতে না পারে তা নিশ্চিত করা হোক। আমরা আশা করবো, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বেচ্ছাসেবীরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন। মনে রাখা প্রয়োজন ভুল চিকিৎসার চেয়ে চিকিৎসা না পাওয়া অনেক কম ক্ষতিকর।