স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রশাসনের কড়াকড়ির পরও যশোরে করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারি বিধিনিষেধ মানছে না মানুষ। বরং অঘোষিত লকডাউন উপেক্ষার প্রবণতা অনেক হারে বেড়েছে। প্রতিদিন প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে রাস্তায় বের হচ্ছে প্রচুর মানুষ। সকাল থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত সবজি বাজার, মুদি ও ওষুধের দোকান ছাড়া অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ থাকলেও ক্রমান্বয়ে এই মুহূর্তে অন্যান্য দোকান খোলার হিড়িক পড়েছে। এই অবস্থা শহর-গ্রামাঞ্চলে সবখানেই। ফলে করোনা সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।
গত ৮ মার্চ থেকে সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশও করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে। এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় করোনা রোগী দেখা দিলেও শুরুর দিকে যশোরে কোনো করোনা রোগীর সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে গত ১২ এপ্রিল যশোরের মনিরামপুরে একজন স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকেই যশোর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সকাল থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত সবজি বাজার, মুদি দোকান খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। এ ছাড়া বাইরের জেলার কোনো মানুষ যাতে যশোরে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ নির্দেশনা দেওয়ার পর যশোর শহর ও আশপাশ এলাকার বাজারগুলোতে মানুষের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও গত কয়েকদিন ধরে হঠাৎ উপস্থিতি বেড়ে গেছে। বিশেষ করে যশোর শহরের বড়বাজার, রেলবাজার এলাকায় মানুষের উপস্থিতি আগের অবস্থানে চলে গেছে। সরকারি নির্দেশ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত তৎপর থাকলেও অঘোষিত লকডাউন পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না যশোরে।
এদিকে যশোর জেলা প্রশাসন জনগণের শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে শহরের বড়বাজারের সবজি ও মাছের বাজার এবং জেলার অধিকাংশ উপজেলার প্রধান বাজার বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানের মাঠসহ খোলা জায়গায় স্থানান্তর করেছে। যশোর বড় বাজারের মাছ বাজার খালধার রোড মেইন রোডের ওপর, সবজি বাজার এইচ এম এম রোড ও রেলবাজার রেলরোডে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে এসব বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে সেখানে সামাজিক দূরত্বের কোনো কিছুই নেই। যে যার মতো গায়ে গায়ে দাঁড়িয়ে বাজার করছে। অধিকাংশ মানুষের মুখে নেই মাস্ক। গতকাল মঙ্গলবার দুপুুর একটার দিকে শহরের বড়বাজারে গিয়ে দেখা গেছে বাজারের অলিগলিতে শুধু মানুষ আর মানুষ। পা ফেলার জায়গা নেই। যেন ঈদের বাজারের জন্য মানুষ ভীড় করছে। বাজারে কথা হয় আলিমুর রহমান নামে এক স্কুলশিক্ষকের সাথে। তিনি বলেন, আর দুদিন পর রোজা তাই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে এসেছি। কিন্তু বাজারে এসে মানুষের যে হারে উপস্থিতি দেখছি তাতে ভয় পাচ্ছি। তারেক আলম নামে আরেকজন ক্রেতা বলেন, করোনা সংক্রমণের কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরার কথা বলা হচ্ছে। তবে বাজারগুলোতে তার কোনো দৃষ্টান্ত নেই। আমি গত ১০ দিন পর যশোর বড় বাজারে এসেছি। কিন্তু এ দৃশ্য থেকে অবাক হচ্ছি। এর চেয়ে গ্রামের হাটবাজারগুলোর পরিবেশ ভালো। একই অবস্থা খালদার রোড মাছ বাজার ও রেলরোড বাজারে। সেখানেও মানুষ ভীড় করে বাজার করছে।
এ বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শফিউল আরিফ জানান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে প্রতিদিন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। কারণে-অকারণে ঘোরাফেরার অপরাধে এ পর্যন্ত অনেক মানুষকে বিভিন্নভাবে শাস্তি ও জরিমানা করা হয়েছে। তারপরও মানুষ সচেতন হচ্ছে না। তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ থেকে এ জেলার মানুষকে রক্ষা করতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।




