যশোর সার্কিট হাউজ পাড়ার দুটি ছাত্রাবাসে মুখোশধারীদের হানা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের সার্কিট হাউজ পাড়ার দুটি ছাত্রাবাসে গত সোমবার রাতে ঢুকে তছনছ চালিয়েছে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এ সময় ৭ হাজার লুট এবং একটি ছাত্রবাসের নুর হোসেন নামে এক ছাত্রকে বেঁধে রাখা হয়। এদিকে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তারা এ সময় একটি ছাত্রাবাসের সামনের রাস্তার পাশ থেকে অবিস্ফোরিত একটি ককটেল উদ্ধার করেছে। এলাকাবাসী জানান, সার্কিট হাউজ পাড়ার বাসিন্দা মাহমুদ হাসানের তিনতলা ভবনের নিচতলার রোকেয়া পল্লী ছাত্রাবাস এবং শামীম হোসেনের একটি ছাত্রাবাসে সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে পর্যায়ক্রমে ঢুকে তছনছ করে দুর্র্বৃত্তরা। রোকেয়া পল্লী ছাত্রাবাসের মালিক শামীম হোসেন জানান, তার ছাত্রবাসে ৬টি রুম আছে। করোনাভাইরাসজনিত কারণে সরকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর ছাত্রাবাসের বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িতে চলে যান। তবে সোমবার নুর আলম নামে একজন ছাত্র কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়ার জন্য ছাত্রাবাসে আসেন। এদিন দিবাগত রাত তিনটার দিকে ৫/৭ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত ওই ছাত্রাবাসে হানা দেয়। তারা এ সময় তাকে দরজা খুলতে বাধ্য করে। পরে দুর্বৃত্তরা ভেতরে ঢুকে নুর আলমের পা দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে সকল রুম তছনছ করে। কিন্তু তারা কোন কিছু নিয়ে যায়নি। দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর নুর আলমের চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং রাস্তার পাশ থেকে একটি ককটেল উদ্ধার করে। এদিকে দুর্বৃত্তরা পরে রোকেয়া পল্লী ছাত্রাবাসে হামলা চালায়। গ্রিলের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ৬টি রুম তছনছ করে। রোকেয়া পল্লী ছাত্রাবাসের মালিক মাহমুদ হাসান জানান, মঙ্গলবার সকালে তিনি শামীম হোসেনের ছাত্রাবাসে হামলা ও তছনছের খবর পান। এসময় তিনি নিজ ছাত্রাবাসের খোঁজ নিতে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তার ছাত্রাবাসেও তছনছ চালিয়েছে। এ সময় ওই ছাত্রাবাস থেকে ৭ হাজার টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। যোগাযোগ করা হলে কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, দুটি ছাত্রাবাসে চুরির ঘটনা জানতে পেরে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ সময় পুলিশ রাস্তার পাশ থেকে ককটেল জাতীয় একটি বস্তু উদ্ধার করেছে।

ভাগ