তীব্র ক্ষুধায় ভোগা মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে পারে করোনা: জাতিসংঘ

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বিশ্বজুড়ে ২৫ কোটির বেশি মানুষকে দুর্ভিক্ষের কিনারে ঠেলে দিতে পারে করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) সংকট। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের খাদ্য ও মানবিক সহায়তা দিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। মঙ্গলবার জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক সংগঠন, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী (ডব্লিউএফপি) ও আরো ১৪টি সংগঠন খাদ্য সংকট নিয়ে বৈশ্বিক একটি প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে। এ খবর দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদন অনুসারে, করোনায় কিছু দরিদ্র দেশ আক্রান্তদের বাঁচাতে গিয়ে তাদের তীব্র খাদ্য সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে। প্রতিবেদনটি আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বৈঠকে উপস্থাপনের কথা রয়েছে। প্রতিবেদনটি জানায়, যেসব উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আগ থেকেই চাপের মুখে ছিল, সেগুলো এখন হাঁপিয়ে উঠবে। বৈশ্বিক অর্থমন্দা খাদ্য সরবরাহ ব্যহত করবে। এমতাবস্থায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে, ছায়া অর্থনীতির কর্মীরা, বিশ্বের ৭ কোটি ৯০ লাখ শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুতরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা সংকটে শ্রমশক্তিতে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে খাদ্য উৎপাদন ব্যহত হবে। রক্ষণশীল পদক্ষেপে খাদ্যের মূল্যও বাড়তে পারে। বাড়তে থাকা বেকারত্ব মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে আনবে। ক্ষুধার মুখে পড়বেন অনেক মানুষ। কিছু দরিদ্র দেশগুলোকে হয়তো মানুষের জীবন বা জীবিকার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হতে পারে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে মানুষদের করোনা থেকে বাঁচানো হবে কেবল ক্ষুধায় মরতে দেয়ার জন্য।
গার্ডিয়ান অনুসারে, গত বছর বিশ্বজুড়ে তীব্র খাদ্য অনিশ্চয়তায় থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল আনুমানিক ১৩ কোটি। যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়া হলে সে সংখ্যা চলতি বছর বেড়ে প্রায় ২৬ কোটি ৫০ লাখ হতে পারে।
জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তা বিষয়ক শাখা ডব্লিউএফপির প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেছেন, কভিড-১৯ সুতা ধরে ঝুলে থাকা কোটি কোটি মানুষের জন্য বিপর্যয়কারী হতে পারে। যাদের খাবার খাওয়ার নিশ্চয়তা সম্পূর্ণভাবে আয়ের উপর নির্ভর করে, তাদের জন্য এই সংকট একটি হাতুড়ির আঘাতের মতো। লকডাউন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দায় ইতিমধ্যে তাদের জমানো সকল অর্থ ধ্বংস হয়ে গেছে। কভিড-১৯ এর মতো আরেকটি কাঁপনই তাদের চূড়া থেকে ফেলে দিতে যথেষ্ট। এই বৈশ্বিক বিপর্যয়ের প্রভাব প্রশমিত করতে আমাদের এখনই সামগ্রিকভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরা প্রতিবেদনটির উপর ভিত্তি করে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, কভিড-১৯ মহামারিতে শুরু হওয়া বিপর্যয়ে বহু পরিবার ও সম্প্রদায়কে আরো গভীর দুর্যোগের দিকে ঠেলে দিতে পারে। সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতাসহ তীব্র বৈশ্বিক প্রতিবন্ধকতার এই মুহুর্তে আমাদের ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূরীকরণে চেষ্টা দ্বিগুণ করতে হবে। এর জন্য আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় হাতিয়ার রয়েছে। পদ্ধতি জানা আছে। আমাদের যা দরকার সেটা হচ্ছে, রাজনৈতিক ইচ্ছা এবং নেতাদের ও রাষ্ট্রগুলোর দৃঢ় প্রতিশ্রুতি। ডব্লিউএফপি অনুসারে, বিশ্বজুড়ে খাদ্য অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় তাৎক্ষণিকভাবে ৩৫ কোটি ডলার প্রয়োজন। তবে এখন পর্যন্ত ওই পরিমাণের মাত্র এক-চতুর্থাংশের মতো সংগৃহীত হয়েছে।

ভাগ