১০৪ দিন পর আবার তারা উহানে

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ লকডাউন তুলে নেওয়া হয়েছে। ধীরে ধীরে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরছে। ঠিক সময়েই উহানের ফুটবল দল শহরে ফিরে এলো, তবে ১০৪ দিন পর আর সাংঘাতিক সব অভিজ্ঞতা সঙ্গে নিয়ে। সেই উহান, চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী। যেখান থেকে ভয়ঙ্কর করোনাভাইরাস শুরু করেছে তার মরণখেলা। উহানের রেল স্টেশনে শয়ে শয়ে সমর্থক। মুখে মাস্ক। প্রিয় দলের কমলা রং গায়ে। কণ্ঠে গান। হাতে ব্যানার। ফুলের গুচ্ছ। জয়ধ্বনি উঠছে থেকে থেকে। এতদিনের নিস্তব্ধ শহরে আবার তারা পা রেখেছে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে, জীবনের নতুন ছন্দে। এই আনন্দময় মুহূর্তের বরণ আসলে এমন আবেগময়ই হয়।
চায়নিজ সুপারলিগের (সিএসএল) নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার কথা ছিল ২২ ফেব্রুয়ারি। গতবার লিগে ষষ্ঠ হওয়া উহান জাল অনুশীলনের জন্য জানুয়ারির শুরুর দিকে তাবু ফেলে দক্ষিণ চীনের গুয়াংজুতে। দলের স্প্যানিশ কোচ হোসে গঞ্জালেস সেখান থেকেই জানুয়ারির শেষ দিকে দল নিয়ে চলে যান স্পেনের মালাগায়। কিন্তু তখন কি আর জানতেন উহান থেকে করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে মৃত্যুভয়ে কাঁপিয়ে দেবে সবাইকে? তখন কি আর ভাবতে পেরেছিলেন কোয়ারেন্টিন আর লকডাউনের জালে আটকে থাকতে হবে তিনটি মাস! তারা কোস্তা দেল সলে পৌঁছানোর পর পরই করোনাভাইরাস উহানে লকডাউন ফেলে দেয়, ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়ে। ওই শহরে কেউ যেতেও পারে না, সেখান থেকে আসতেও পারে না। স্পেনে কয়েকটি অনুশীলন ম্যাচ খেলার কথা ছিল স্থানীয় কিছু দলের সঙ্গে। শরীরে ভাইরাস নেই, স্পেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রমাণপত্র মেলে। ‘এরা কেউ চলমান ভাইরাস নয়, অ্যাথলেট’- কোচ গঞ্জালেসের এ কথায়ও কেউ আশ্বস্ত হয় না। উহান জালের সঙ্গে খেলতেই চায় না কেউ। ওরা যে করোনার উৎপত্তিস্থল থেকে এসেছে! তাই রিসোর্টে বন্দি অবস্থাতেই চলতে থাকে অনুশীলন। প্রায় ছয় সপ্তাহ। দেশে ফেরার জন্য মন আকুল হয়। স্বজনদের জন্য প্রাণ কাঁদে। স্মার্টফোনের ভিডিও কলে কথাবার্তা চলে। কিন্তু দেশে আর ফেরা হয় না। উহানের বিমানবন্দর, রেলস্টেশন সবই যে তখন বন্ধ।
মার্চে যখন স্পেনের দখল নিতে চলেছে করোনা, তারা জার্মানিতে গিয়ে লম্বা সময়ের জন্য আটকে পড়ে কোয়ারেন্টিনে। সেখান থেকে ১৬ মার্চ ফিরেছে দক্ষিণ চীনের শেনজেনে। এখানেও তিন সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে কেটেছে, তারপর পাশের শহর ফোশানে অনুশীলন চলেছে দিন কয়েক। অবশেষে গুয়াংজু থেকে দ্রুতগতির ট্রেনে চেপে শনিবার উহানের মাটি ছোঁয়া। আগের নির্ধারিত তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি করোনার পেটে গেছে, কবে সিএসল শুরু হবে ঠিক নেই। হতে পারে জুনে, যদিও সেটা শুধু ধারণাই। তবে উহান জাল বসে থাকবে না। অনুশীলন চলবে। স্থানীয় খেলোয়াড়েরা পরিবারের সঙ্গে তিনটি দিন কাটিয়ে এসেই বুধবার থেকে ঝাঁপিয়ে পড়বে অনুশীলনে। কিন্তু এই অনুশীলনের মধ্যে বারবার তারা ফিরে তাকাবে পেছনে। আতঙ্ক আর যন্ত্রণায় মনটাকে কুঁরে কুঁরে খাওয়া দীর্ঘ দিনগুলো তখন এসে দাঁড়াবে সামনে।