পাটকল শ্রমিকদের পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার দাবি খুলনা বিএনপির

খুলনা ব্যুরো ॥ নভেল করোনা ভাইরাসে তিন সপ্তাহ লকডাউনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন খুলনা অঞ্চলের নয়টি পাটকলের ৩০ সহ¯্রাধিক পাটকল শ্রমিক। অবিলম্বে পাটকল শ্রমিকদের পাওনা মিটিয়ে দেওবার দাবি জানিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি। গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, করোনা ভাইরাসে ২৪ মার্চ সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি ঘোষণার পূর্বে পাটকল শ্রমিকরা ১১ সপ্তাহের বকেয়া পাওনার সাথে সন্ধ্যাকালীন তিন সপ্তাহ মোট ১৪ সপ্তাহ মজুরি না পাওয়ায় অনাহারে অর্ধাহারে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিদারুন কষ্টে দিন কাটচ্ছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার বক্তব্যে সকল সেক্টরে প্রণোদনার আশ্বাস দিলেও পাটকল শ্রমিকদের ব্যাপারে কোন ঘোষণা না আসায় হতাশ হয়েছেন পাটকল শ্রমিকরা। নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের দেয়া ত্রাণসামগ্রী বন্টন প্রক্রিয়ায় খালিশপুরের পাটকল এলাকা, আটরা শিল্প অঞ্চল, দিঘলিয়া ও নওয়াপাড়া পাটকল এলাকায় কোন ছোঁয়া লাগেনি। এসব এলাকায় কোন বিশেষ বরাদ্দ না থাকায় এমনকি ১০ টাকায় চাল বিক্রির ওএমএস বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা আরও বড়ধরণের সংকটে পড়েছে। খুলনা মহানগর বিএনপি মনে করে দেশের এই বৃহৎ পাটকল শ্রমিকদের চলমান সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নিতে হবে। বিবৃতিতে পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে, জেলা প্রশাসনকে দেশের প্রধানমন্ত্রীর বরাবর জরুরি বার্তা পাঠিয়ে পাটকল শ্রমিকদের বিদ্যমান সমস্যা অবহিত করার পদক্ষেপ নেয়া। অতিদ্রুত পাটকল শ্রমিকদের ১৪সপ্তাহ বকেয়া মজুরী পরিশোধের ব্যবস্থা করা। পাটশিল্প এলাকায় বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করা। সেক্ষেত্রে ত্রাণ বন্টন প্রক্রিয়া সরকারি দলকে সম্পৃক্ত না করে সেনাবাহিনীর ওপর দায়িত্ব দেয়া এবং পাটকল শিল্প এলাকায় ১০ টাকা কেজি দরে ওএমএস’র চাল বিক্রির পদক্ষেপ গ্রহণ করা। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বন্দর ও শিল্পনগরী সেক্টরভিত্তিক শ্রমিকদের জন্য যেমন মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, ইজিবাইক ও রিকশা চালক, ফুটপাত হকার, দিনমজুর, হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের আলাদা আলাদাভাবে তালিকা করে ত্রাণ বন্টন করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিদাতারা হলেন-বিএনপির চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম দাদুভাই, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশারফ হোসেন, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, আব্দুল জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম, অ্যাড. ফজলে হালিম লিটন, স. ম আব্দুর রহমান, মো. ইকবাল হোসেন, অধ্য তারিকুল ইসলাম, শেখ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, এসএম আরিফুর রহমান মিঠু, ইকবাল হোসেন খোকন প্রমুখ।

ভাগ