মার্চের বেতন পাননি এখনও ১৮১ পোশাক কারখানার শ্রমিক

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ দেশে বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত তৈরি পোশাক শিল্প-কারখানা রয়েছে ২ হাজার ২৭৪টি। এর মধ্যে ২ হাজার ৯৩টির মালিক তাদের ২৩ লাখ ৬০ শ্রমিকের মার্চ মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেছেন। এখনও ১৮১ কারখানার শ্রমিক বেতন-ভাতা পাননি। রোববার (১৯ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
বিজিএমইএ বলছে, ২ হাজার ২৭৪ কারখানার মধ্যে ঢাকা মহানগর এলাকায় রয়েছে ৩৬০টি। এর মধ্যে মার্চের বেতন দিয়েছে ৩২৫টি প্রতিষ্ঠান। গাজীপুরের ৮০৮টি কারখানার মধ্যে বেতন দিয়েছে ৭৪৬টি, সাভার আশুলিয়ায় ৪৭১টির মধ্যে বেতন দিয়েছে ৪৪০টি, নারায়ণগঞ্জে ২৬৯টি পোশাক কারখানার মধ্যে বেতন দিয়েছে ২৬০টি, চট্টগ্রামে ৩২৪টি কারখানার মধ্যে ২৮৩টি এবং প্রত্যন্ত এলাকার ৪২টি কারখানার মধ্যে ৩৯টির মালিক মোট ২৩ লাখ ৬০ হাজার শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করেছেন। তবে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ১৮১টি কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেননি মালিকরা। এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলছেন, বেশিরভাগ বড় বড় প্রতিষ্ঠান মার্চের বেতন পরিশোধ করেছে। যারা বেতন দেননি তাদের অধিকাংশ ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। আর্থিক সমস্যা, ব্যাংকিং জটিলতা ও চলমান পরিস্থিতিতে যাতায়াতের কারণে বেতন পরিশোধ করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে আগামী ২০ থেকে ২২ এপ্রিলের মধ্যে শতভাগ শ্রমিক মার্চে বেতন পাবেন বলেন তিনি আশ্বাস দেন।
এদিকে বেতন না পেয়ে করোনাভাইরাসের এ দুর্যোগকালেও মার্চ মাসের বেতন-ভাতার দাবিতে প্রতিদিনই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকরা। শ্রমিকদের মজুরি না দেয়া গার্মেন্টস মালিকদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নামক একটি সংগঠন। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল এবং সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। এর আগে ১৩ এপ্রিল এক বিবৃতিতে চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে শ্রমিকদের মার্চের বেতন ১৬ এপ্রিলের মধ্যে পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। বিবৃতিতে সব শিল্প-কলকারখানার শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন ১৬ এপ্রিলের মধ্যেই পরিশোধের জন্য মালিকদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এ নির্দেশ না মানলে বা উক্ত তারিখের মধ্যে বেতন প্রদানে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার কথা মাথায় রেখে সরকারি নির্দেশনা মেনে শ্রমিকদের ঘরে থাকার আহ্বান জানান।