কলারোয়ায় বোরো ধান ক্ষেতে নেক ব্লাস্ট : কৃষক দিশেহারা

কে. এম. আনিছুর রহমান,কলারোয়া ॥ কলারোয়া উপজেলার কিছু এলাকার বোরো ধান েেত নেক ব্লাস্ট (ধানের গলাপচা) রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষ। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় ধান কাটা শুরু হলেও এখনো অনেক এলাকায় ধান পাকতে শুরু করেছে। সেগুলো মাস খানিকের মধ্যে কাটার পর্যায়ে যাবে। তবে বেশ কিছু এলাকার ফসলি মাঠের ধানের শীষে নেক ব্লাস্ট রোগ হওয়ায় আশানুরূপ ধান ফলন না হওয়ার শংকা দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অনেক জমির বোরো ধানের শীষ সাদা হয়ে গেছে। শীষের গোড়ায় প্রথমে এ রোগ দেখা দিয়ে তা পুরো শীষকে গ্রাস করছে। এ অবস্থায় কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। উপজেলার কলাটুপি গ্রামের কৃষক শরিফ বলেন, ৫০ শতক জমিতে ২৮ জাতের ধান চাষ করেছি। গাছ দেখে মনে হয়েছিলো ফলন ভালো হবে। কিন্তু হঠাৎ করে এই রোগে েেতর ধানের শীষগুলো শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ওষুধ দিয়েও ভাল ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের ধান চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর এলাকার অনেক েেত এ রোগ দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক দিয়েও কোনো লাভ না হওয়ায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাঁরা এ রোগ দমনে সঠিক পরামর্শের জন্য কীটনাশকের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। কলাটুপি গ্রামের মমিন ৩ বিঘা জমি ভাগে নিয়ে ২৮ জাতের ধান চাষ করেছেন। তিনি বলেন,জমিতে তিনবার স্প্রে করেছি। এবার জমির মালিককে কোন জায়গা থেকে ধান দেব, সেই চিন্তায় আছি। কৃষকরা জানান- এ রোগের প্রভাবে েেতর ধানের শীষ আস্তে আস্তে সাদা হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে, ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মহাসীন আলী জানান, এবার কলারোয়া উপজেলায় সাড়ে ১২হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এখন পর্যন্ত বাম্পার ফলনের আশা করছি। ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে, চলবে মাসখানেক ধরে। তিঁনি বলেন,করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও তিঁনিসহ উপ-সহকারী কৃষি অফিসারগণ মাঠপর্যায়ে কৃষকদের কল্যাণে কাজ করে চলেছেন। আমরা মাঠে গিয়ে কৃষকদের মধ্যে পরামর্শ দিচ্ছি। এখন নেক বাস্ট রোগ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত উপজেলায় মাত্র কিছুর জমির ধান ওই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। দিনের বেলায় গরম আর রাতে ঠান্ডা আবহাওয়ায় ২৮ জাতের ধান েেত ওই রোগ দেখা দিয়েছে। তবে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করে সুফল পাওয়া যাচ্ছে। যেসব জমি এখনো সংক্রমিত হয়নি বা কেবল সংক্রমণ দেখা দিয়েছে, সেগুলোতে প্রতিরোধক হিসেবে কাসোবিন, নাটিভো ট্রপার ছত্রাকনাশক ছিটানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

ভাগ