কে. এম আনিছুর রহমান, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) ॥ সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশও করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে জনজীবন বিপর্যস্ত। দেশের খেটে খাওয়া মানুষ প্রায় একমাস ঘরবন্দি। কোন কাজকর্ম করতে না পারায় তাদের অনাহারে থাকার উপক্রম। তবে মানুষ যাতে কষ্ট না পায় সে লক্ষ্যে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীব অসহায়দের বাড়ি বাড়ি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য তালিকা প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ দেশের সকল জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। পরে এ নির্দেশনা অনুযায়ী সাতক্ষীরার কলারোয়ার পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলররা এবং ১২ টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বররা তাদের চাহিদা অনুযায়ী ইতোমধ্যে মোট ৪১ হাজার ৯৫৯ জন খেটে খাওয়া মানুষসহ গরীব অসহায়দের তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর জমা দেন। এরমধ্যে কলারোয়া পৌরসভায় ৭ হাজার জন, জয়নগর ইউনিয়নে ৩ হাজার জন, জালালাবাদ ইউনিয়নে ৪ হাজার জন, কয়লা ইউনিয়নে ১ হাজার ৫শ জন, লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নে ১ হাজার ৫শ জন, কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের ৩ হাজার ৫শ জন, সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নে ৩ হাজার ৫শ জন, চন্দনপুর ইউনিয়নে ৫ হাজার ২৯৯ জন, কেরালকাতা ইউনিয়নে ২ হাজার ৪৩৫ জন, হেলাতলা ইউনিয়নে ২ হাজার ৪৭৯ জন, কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নে ২ হাজার জন, দেয়াড়া ইউনিয়নে ২ হাজার ৭৪৬ জন ও যুগিখালী ইউনিয়নে ৩ হাজার জনসহ মোট ৪১ হাজার ৯৫৯ জনের নাম জমা দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পৌর মেয়র ও ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান। পৌর মেয়র এবং স্ব স্ব ইউপি চেয়ারম্যানরা আরো জানান, তাদের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কয়েক ধাপে পর্যায়ক্রমে আসা কলারোয়া পৌরসভা ও উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে মোট ১১ হাজার ১৫৬ জনের মাঝে মাথাপিছু ১০ কেজি করে চালসহ ডাল, তেল ও আলু গরীব ও অসহায়দের মাঝে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বিতরণ করা হয়েছে। যা অব্যাহত থাকবে। তবে চাহিদা অনুযায়ী ইতিমধ্যে যেসব খাদ্যসামগ্রী পৌঁছেছে তা অত্যন্ত অপ্রতুল হওয়ায় খেটে খাওয়া ঘরবন্দি মানুষগুলো খুবই দুর্বিসহ জীবন-যাপন করছে। ইতোমধ্যে জনপ্রতিনিধিরা তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে কেউ কেউ সাবান, মাক্স, তেল, ডাল, আলু, দিয়েছেন বলে জানান। ত্রাণ না পাওয়া মধ্যবিত্তসহ খেটে খাওয়া ঘরবন্দি শত শত মানুষ জানান, তারা এমনই পরিস্থিতির মধ্যে আছেন, না পারছেন কারো কাছে হাত পাততে, না পারছেন সইতে। এভাবে চলতে থাকলে তাদের ঘর থেকে বেরিয়ে আসা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।
এ ব্যাপারে কলারোয়া পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মনিরুজ্জামান বুলবুল জানান, তার পৌর এলাকার ৭ হাজার জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত তিনি ৩ হাজার ৪শ জনের চাল এবং নগদ ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা ও ২০ হাজার টাকার শিশু খাদ্য হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৬শ জনের মাঝে মাথাপিছু ১০ কেজি করে চাল এবং ডাল ও তেল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৮শ জনের চাল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে। জয়নগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শামসুদ্দীন আল মাসুদ বাবু জানান, তার ইউনিয়নের ৩ হাজার জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৬৬৯ জনের চাল ও নগদ ১০ হাজার টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ৫৯৯ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৭০ জনের চাল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
জালালাবাদ ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল কালাম জানান, তার ইউনিয়নের ৪ হাজার জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৬১৮ জনের চাল ও নগদ ১১ হাজার ৫শ টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ৩৪৮ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২৭০ জনের চাল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে। কয়লা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের ১ হাজার ৫শ জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ২৯৮ জনের চাল ও নগদ ১১ হাজার টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ১৬৫ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১৩৩ জনের চাল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে। লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নের ১ হাজার ৫শ জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৪২৯ জনের চাল ও নগদ ১৩ হাজার টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ২১২ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২১৭ জনের চাল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে। কেঁড়াগাছি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিল জানান, তার ইউনিয়নের ৩ হাজার ৫শ জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৭৭৩ জনের চাল ও নগদ ১২ হাজার ৫শ টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ৫৫৩ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২২০ জনের চাউল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে। সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল ইসলাম মনি জানান, তার ইউনিয়নের ৩ হাজার ৫শ জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৮৮২ জনের চাল ও নগদ ২১ হাজার ৫শ টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ৭৩২ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৯০ জনের চাল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে। চন্দনপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি জানান, তার ইউনিয়নের ৫ হাজার ২৯৯ জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৯১২ জনের চাউল ও নগদ ৩ হাজার ৫শ টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ৪০৫ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৫০৭ জনের চাল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে। কেরালকাতা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ জানান, তার ইউনিয়নের ২ হাজার ৪৩৫ জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৭৪৫ জনের চাউল ও নগদ ১৪ হাজার ৫শ টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ৩৯৫ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৩৫০ জনের চাল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে। হেলাতলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের ২ হাজার ৪৭৯ জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৬৭৭ জনের চাল ও নগদ ১০ হাজার ৭শ টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ৩৮৪ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২৯৩ জনের চাল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
কুশোডাঙ্গা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আসলাম হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের ২ হাজার জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৫৩৪ জনের চাল ও নগদ ১২ হাজার টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ৩৮০ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১৫৪ জনের চাল দ্রুত বিতরণ করা হবে। দেয়াড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জানান, তার ইউনিয়নের ২ হাজার ৭৪৬ জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৫২২ জনের চাউল ও নগদ ১২ হাজার ৫শ টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ২৯২ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২৩০ জনের চাল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে। যুগিখালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রবিউল হাসান জানান, তার ইউনিয়নের ৩ হাজার জনের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৬৯৭ জনের চাউল ও নগদ ১১ হাজার ৫শ টাকা হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ৫০৫ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১৯২ জনের চাল ২/১ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আর এম সেলিম শাহনেওয়াজ জানান, কলারোয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই চাহিদা পত্রের বিপরীতে কয়েক দফায় যে পরিমান চাল এসেছে তা নিয়ম মাফিক বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া চাহিদার অবশিষ্ট ত্রাণের চাল পর্যায়ক্রমে প্রতি সপ্তাহে পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান।




