মার্চে পণ্য রপ্তানি আয় কমেছে ১৮ শতাংশ

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ করোনার কারণে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে দেশের পণ্য রপ্তানি আয়ে। মার্চে ২৭৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে। যা ওই মাসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৮ শতাংশ কম। ২০১৯ সালের মার্চের চেয়ে গত মাসে রপ্তানি কমেছে ১৮.২৯ শতাংশ। তার আগে গত অক্টোবরে সর্বোচ্চ রপ্তানি কমেছিল ১৭.১৯ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। সামগ্রিকভাবে চলতি ২০১৯–২০ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই–মার্চ) ২ হাজার ৮৯৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬.২৪ শতাংশ কম।
ইপিবি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শুধু মার্চ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ২৭৩ কোটি ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কম ১৮ শতাংশের মতো। মার্চে পোশাক রপ্তানি আয় হয়েছে প্রায় ২২৬ কোটি ডলার। কমেছে ২০ শতাংশ। মাসওয়ারি হিসেবে দেখা গেছে, রপ্তানি আয়ে গত আগস্টে সাড়ে ১১ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ৭ শতাংশ, অক্টোবরে ১৭ শতাংশ, নভেম্বরে ১১ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। ইপিবির রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, টেরিটাওয়েল, হোমটেক্সটাইলসহ অধিকাংশ পণ্যের রপ্তানি কমেছে। আর পাট ও পাটজাত পণ্য, আসবাব, হস্তশিল্প, বাইসাইকেলের রপ্তানি বেড়েছে। ইপিবির তথ্যানুযায়ী, দেশের সিংহভাগ রপ্তানি আয়ের উৎস তৈরি পোশাক খাতেও আলোচ্য সময়ে রপ্তানি আয় কমেছে। গত জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে এ খাতে আয় হয়েছে ২ হাজার ৪১০ কোটি ডলার। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭.১২ শতাংশ কম। গত অর্থবছর ৩ হাজার ৪১৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছিল। পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলেছে, করোনার কারণে ১ হাজার ১৪০ কারখানার ৩১৬ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। এতে পোশাক রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিকেএমইএ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, করোনার প্রভাব আসলে পড়বে এপ্রিল ও পরবর্তী মাসগুলোতে। তিনি দাবি করেন, মার্চে যে পণ্য রপ্তানি হয়েছে তার বিপরীতে টাকা পাওয়া যায়নি। তাই অনেকে শ্রমিকের মজুরি দিতে সমস্যায় পড়েছেন। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ৪০ কোটি ২৬ লাখ ডলারের হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩.৯১ শতাংশ কম। এছাড়া আলোচ্য সময়ে ৭৭ কোটি ডলারের পাট ও পাটপণ্য, ৭২ কোটি ১৯ লাখ ডলারের কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ৬৮ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থবছর ৪ হাজার ৫৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। চলতি অর্থবছর রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার। বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে শুরুতেই বিপাকে পড়ে চামড়া, কাকড়া ও কুঁচে রপ্তানির মতো খাত, যারা চীনের বাজারের ওপর বেশি নির্ভরশীল ছিল। নয় মাস মিলিয়ে চামড়া খাতে রপ্তানি কমেছে ১১ শতাংশ। বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস ফুটওয়্যার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, অনেক ট্যানারি দুই-তিন মাসের মজুরি বকেয়া। কিন্তু শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করতে রাস্তায় নামে না। কারণ তাদের আস্থা আছে যে, মালিক বাঁচলে তারাও বাঁচবে।