মানুষকে গৃহবন্দী করে খাবার ও চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি কৃষক সংগ্রাম সমিতির

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির এক যুক্ত বিবৃতিতে বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস মহামারীতে যাতে সংক্রমণ বৃদ্ধি না পায়, তার জন্য সব মানুষকে গৃহবন্দী করে রাখা, কর্মহীন মানুষের জন্য ন্যূনতম খাবার নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ অর্থনীতির ভিত্তি হচ্ছে কৃষি। করোনার আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে যদি কৃষিকাজ বন্ধ থাকে, বাইরে থেকে কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী না আনা যায়, দ্বিতীয় ভয়াবহ বিপর্যয়টি শুরু হবে। প্রায় সব রাষ্ট্রে খাদ্য উৎপাদনের ঘাটতি থাকার আশঙ্কা রয়েছে এবার। ফলে বাইরে থেকে খাদ্য কিনে ঘাটতি মেটানোর সুযোগ থাকবে না। ফলে বর্তমান বিপর্যয়ের মধ্যেই কৃষিকাজ বা চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ঠ বাস্তব পদপে নিতে হবে। এ অবস্থায় সম্ভাব্য মন্দা বা দুর্ভি মোকাবেলায় এখনই কৃষক ও খামারিদের ফসল-পণ্য বিপণনে সরকারি তত্ত্বাবধানে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, ফসল সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে সরকারকে ক্রয় ও আগামী ফলনের জন্য বিনাসুদে ঋণ, বীজ, সার, সেচ ব্যবস্থাপনার পর্যাপ্ত ব্যবস্থার আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ যথাসময়ে সতর্ক হতে পারেনি। করোনার সঙ্গে লড়তে করোনার আগে হাঁটতে হবে, পেছনে নয়। কিন্তু সবাই করোনার পেছনে হেঁটে চলেছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ মহামারীর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। বিপদ শুধু করোনার আক্রমণ নয়, রয়েছে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা। করোনার আক্রমণে যখন স্বাভাবিক জীবনযাপন ভেঙে পড়েছে, সবকিছুর ওপর তার প্রভাব পড়ছে। সরকার এখনও পর্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ইতিমধ্যে সিলেট ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের চিকিৎসা প্রস্তুতি গড়ে তুলতে পারেনি। সিলেটে করোনা চিকিৎসা প্রদানকারী একজন চিকিৎসক এক প্রকার বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদি দায়িত্বরত চিকিৎসকই সেবা না পান তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হতে পারে। অন্যদিকে সরকার যে ৯২ হাজার কোটি টাকার ‘প্রণোদনা’ ঘোষণা করেছে তার সিংহভাগই ঋণ ও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল, যার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যাগরিষ্ঠরা পাবে কী না তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। ত্রাণের চাল লোপাটের ঘটনা সে আশঙ্কাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে করোনা মহামারীতে পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহে মারাত্মক বিঘœ ঘটায় দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে এপ্রিলের শেষে খাদ্য সঙ্কট দেখা দেবে বলে জানিয়েছে পিপিআরসি। তারা জরুরি খাদ্য সহযোগিতার কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। এ অবস্থায় সম্ভাব্য জাতীয় দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট ঘটনার দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।