করোনা: ভারসাম্যহীনদের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘ইচ্ছা’

0

বাগেরহাট সংবাদদাতা ॥ বাংলাদেশও রক্ষা পায়নি এই ভয়ঙ্কর করোনাভাইরাস থেকে। অনেক জেলা ইতোমধ্যে লকডাউন করা হয়েছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা বাগেরহাটেও যানচলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সীমিত করা হয়েছে মানুষের চলাফেরাও। এই পরিস্থিতিতে সবকিছুতে এক ধরনের স্থবিরতার সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যায় পড়েনি এমন কোনো পেশা বা শ্রেণির মানুষ খুঁজে পাওয়া দুস্কর। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন চাল-চুলোহীন ছিন্নমূল ও মানসিক ভারসাম্যহীন পথে থাকা মানুষগুলো। খাবারের হোটেলের সামনে অনটাইম প্লেটে কাস্টমারের মাখা খাবারে পেটের জ্বালা মেটান এরা। করোনা পরিস্থিতিতে না খেয়ে মরার উপক্রম হয়েছেন এইসব মানুষ। এই করুণ পরিস্থিতে নিরবে, নিভৃতে মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষগুলোকে রান্না করা খাবার খাওয়াচ্ছেন সামাজিক সংগঠন “ইচ্ছা”। মানসিক ভারসাম্যহীনদের পাশাপাশি বাগেরহাট শহরের ২০ টি স্থানে বেওয়ারিশ কুকুর এবং পাখিদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছে এই সংগঠনটি।
জানা যায়, ২৩ মার্চ থেকে “ইচ্ছা”র কর্মীরা বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শহরের ১৫ থেকে ২০ জন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষকে তারা প্রতিদিন দুইবেলা রান্না করা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। শহরে ঘুরে বেড়ানো বেওয়ারিশ কুকুরেরও নিয়মিত খাবার দিচ্ছেন তারা। পাখিদের জন্য দেওয়া হচ্ছে ধান, গম ও মুড়ির মতো শুকনো খাবার। এছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে সংগঠনটি কয়েকজনকে অর্থ এবং ৬শ ৬৮ মধ্যবিত্ত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে। নিজস্ব প্রস্তুতকৃত ৯ শ লিটার হ্যান্ড স্যানিটাইজার মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন কর্মীরা। খেটে খাওয়া মানুষকে মাস্কও দিয়েছে সংগঠনটি। ইচ্ছা‘র সাধারণ সম্পাদক শারমিন মেহফুজ সাথি বলেন, যে সকল ভাসমান এবং ভারসাম্যহীন মানুষ এখন বাগেরহাটে অবস্থান করছেন তাদের শুধু খাদ্য নয়, বাসস্থানেরও প্রয়োজন। ইচ্ছা‘র সভাপতি অ্যাড. শাহিন সিদ্দিকী বলেন, ২০১৪ সালে বাগেরহাটের হতদরিদ্র মানুষের জন্য রক্ত জোগাড় করার মাধ্যমে সংগঠনের পথ চলা। এরপর অসহায় দরিদ্র শিশুদের জন্য ঈদের পোশাক দেওয়া। দরিদ্র মানুষকে চিকিৎসা ও শিক্ষা সহায়তার মধ্য দিয়ে চলতে থাকে আমাদের সেবাধর্মী কাজ। বৈশ্বিক এই মহামারীতে যেসব মধ্যবিত্ত মানুষ কারও কাছে খাবার চাইতে পারেন না, তাদেরকে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। বাগেরহাট শহরে থাকা ছিন্নমূল ও মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষকে প্রতিদিন দুইবেলা রান্না করা খাবার দিচ্ছি। বেওয়ারিশ কুকুর পাখিদেরও খাবারের ব্যবস্থা করেছি। ভবিষ্যতে যে কোন দুর্যোগে এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।