মাসুদ রানা বাবু ॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগজ্ঞ অঞ্চলে মাঠে মাঠে দক্ষিণা বাতাসে দুলছে কৃষকের স্বপ্নের বোরো ধান। সেই বাতাসে মিশে আছে কৃষকের ঘামঝরা পরিশ্রমের স্বপ্ন। কিন্তু প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে সেই স্বপ্ন কি ভেঙে চুরমার হয়ে যায় সেই মহাদুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন তারা। কারণ যেখানে প্রতিবছর ধান ওঠার আগেই ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে সংশয়, আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। সেই দুশ্চিন্তার সাথে এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে প্রাণঘাতী ভাইরাসের বিষয়টি। যার প্রভাবে ব্যবসা বাণিজ্য অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। সেখানে বোরো ধানের ক্ষেত্রেও এর কোন প্রভাব পড়বে কিনা? স্বাভাবিকভাবে সেই বিষয়টি কৃষকের মাথায় চলে আসে। প্রতিবছর এ অঞ্চলে ব্যাপক আকারে বোরো ধানের আবাদ হয়ে থাকে। এবছরও গালদা, খড়িঞ্চা, হানুয়ার, দোদাড়িয়া, হরিহরনগর, জোকা, কোমলপুর, ষোলখাদা, ঝাঁপা, ইচানি, মোবারকপুর, চন্ডিপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষক ব্যাপক আকারে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। দিগন্তজোড়া মাঠের পর মাঠ এখন তাদের সবুজ বোরো ধানে কানাই কানাই ভর্তি। দৃষ্টি যে দিকে যায় সে দিকে এখন আধাপাকা সবুজের সমারোহ ও ক্ষেতে ভর্তি বেরো ধান। সবুজের বিস্তৃর্ণ জোড়া এই বোরো ধানের ক্ষেত যেমন কৃষকের কাছে অনেক প্রশান্তির তেমনি অনেক দুশ্চিন্তার। এ সকল অঞ্চলের কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, জমি চাষ থেকে শুরু করে ধান রোপণ, প্রয়োজনীয় পরিচর্যা সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগে তাদের বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ৮ থেকে ১০হাজার টাকার ওপরে। এখনো ধান কাটা থেকে শুরু করে ঘরে তোলা পর্যন্ত বড় একটি খরচ বাকি আছে। এখন ধান পাকার মৃহূর্তে তারা পোকামাকড়ে যাতে ধানের শীষ কাটতে না পারে সে জন্য বালাইনাশক প্রয়োগ করছেন। তারা ধারণা করছেন, আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি ধান কাটা শুরু হবে। সুষ্ঠুভাবে ধান ঘরে তুলতে পারলে এবার বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ মণ ধান পাবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ বছর তারা বাসমতি শুভলতা ব্রি-২৮ ভিত্তি-২৮ সহ বিভিন্ন জাতের উন্নত ফলনশীল জাতের ধানের আবাদ করেছেন। তবে এই কৃষকরা সংশয় প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবছর বোরো ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সহজলভ্যতা থাকে না । একেকজন শ্রমিককে অনেক চড়া মূল্য দিতে হয়। বলা যায়, এক মণ ধানের টাকার সমান একজন শ্রমিকের মূল্য। আবহাওয়ার বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেক সময় ধান মাঠ থেকে ঘরে আনতে তাদের বাড়তি একটি খরচ হয়। সবশেষে ধান বিক্রির সময় মধ্য স্বত্বভোগীদের দৌরাত্মের বা কারসাজির কারণে তারা কাঙ্খিত মুনাফা থেকে বঞ্চিত হন। তাদের এসব দুশ্চিন্তার সাথে বাড়তি যুক্ত হয়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। ইতিমধ্যে এই ভাইরাস দেশের সব ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। দেশের অনেক অঞ্চল লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এই অঞ্চলেও একজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এসব কারণে আসন্ন ধান কাটার মৌসুমে তারা সুষ্ঠুভাবে ধান ঘরে তোলা নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তারা সহজে শ্রমিক পাবেন কি না? বা শ্রমিক পেলেও অনেক চড়া মূল্য দিতে হবে কি না? এরপর ধান বিক্রির ক্ষেত্রেও এর কোন প্রভাব পড়বে কিনা? ধানের বাজারের অবস্থা কি রকম থাকতে পারে? কিংবা এটিকে পুঁজি করে মধ্যস্বত্বভোগীরা বাড়তি কোন ফায়দা লুটে নেয়ার সুযোগ পাবেন কিনা?।





