শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। যশোর জেলা প্রশাসক ও শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের ৮নং ইউপি সদস্য কামাল হোসেন। তিনি কাঠুরিয়া গ্রামের ভ্যান চালক ও দিনমুজুর ১৫ জনের কাছ থেকে খাদ্যবান্ধব ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চালের কার্ড কৌশলে জমা নেন। গত ৮ এপ্রিল কামাল হোসেন ১৫টি কার্ডের চাল ডিলারের কাছ থেকে তুলে আত্মসাত করেন।
১০ টাকা কেজি দরে চাল দিচ্ছে এমন খবর শুনে কার্ডের মালিকরা মেম্বারের কাছে তাদের কার্ড চাইতে যান। কামাল মেম্বার বলেন তোমাদের কার্ড বাতিল হয়ে গেছে। এ খবর শুনে হতভম্ব হয়ে পড়েন কার্ডের মালিকরা। পরে ডিলারের কাছে খবর নিয়ে দেখেন তাদের নামে চাল তুলে নিয়েছেন মেম্বার কামাল। এ ঘটনায় কার্ডধারী ১৩ জন যশোর জেলা প্রশাসক ও শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগের সূত্র ধরে শার্শা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসার ইন্দ্রজিৎ সাহা বিষয়টি সরজমিন তদন্ত করেন। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন তদন্ত করেছি। রিপোর্ট শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পেশ করবো। তিনি জানান, শার্শা উপজেলায় ১৭হাজার ৬১৭জনের নামে খাদ্যবান্ধব ১০ টাকা কেজি দলের চাল এর কার্ড রয়েছে। প্রতিমাসে প্রতিকার্ডধারী ব্যক্তি ৩০ কেজি চাল ১০ টাকায় উত্তোলন করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন এক জনের কার্ডে অন্য কেউ চাল তুলতে পারবেন না।
অভিযোগে কার্ডধারী রিংকু, ইয়াকুব আলী ও মাওবার আলী জানান, ‘আমাদের ১০ টাকা চালের কার্ড রয়েছে। কিছু দিন আগে মেম্বার চালের কার্ড তার কাছে জমা দিতে বলেন। আমরা সহজ সরল ভাবে মেম্বারের কাছে কার্ড জমা দিই।’ তারা জানান, কাজ না থাকায় অতি কষ্টে জীবন যাপন করছি। খবর নিয়ে জানতে পারলাম কামাল মেম্বার আমাদের নামে চাল তুলে আত্মসাত করেছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কামাল মেম্বার বলেন, ওপরের নির্দেশ ছিল কার্ড পরিবর্তন করার। এ জন্য পুরানো কার্ড দিয়ে অন্যদের চাল তুলে দিয়েছি। উলাশী ইউপি চেয়ারম্যান আয়নাল হক বলেন, ঘটনাটি জেনেই কামাল মেম্বারকে নির্দেশ দিয়েছি উত্তোলন করা চাল কার্ডধারীদের ফিরিয়ে দিতে। তিনি বলেন করোনাভাইরাসের কারণে অসহায়দের প্রাপ্য কোন ত্রাণ আত্মসাতকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মন্ডল বলেন, অভিযোগ পেয়েছি,তদন্ত চলছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, যশোর র্যাব-৬, শার্শা নির্বাহী অফিসার ও শার্শা উপজেলায় দায়িত্বরত সেনাবাহিনী অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।





