ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥ করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণকারী এক ব্যক্তির কেউ না আসলেও ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা শুভ মরদেহটি তার বাড়িতে এনে দাফন ও পরে উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে জানাজা পড়িয়ে আলোচনায় আসেন। তবে তার এ ধরনের উদ্যোগ নতুন নয়, তিনি দেশের যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন, মানুষের জন্য ভাল কিছু উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন। তিনি পটুয়াখালি শহরের সবুজবাগ এলাকার সরকারি চাকুরিজীবি ফারুকুর রহমানের ছেলে। তিনি লেখা পড়া শেষ করে ৩০ বিসিএসে সিভিল প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন। তিনি পারিবারিকভাবে স্ত্রী ও তিন সন্তানের জনক। গত ২০১৭ সালে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার এসিল্যান্ড হিসাবে যোগদানের পর থেকে একটি সরকারি পুরাতন স্থাপনা ভেঙ্গে সেখানে ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরী করে ওই এলাকার মানুষের প্রশংসা কুড়ান। ২০১৯ সালে পদোন্নতি পেয়ে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন। সেখানে তিনি স্থানীয় অনুদানের মাধ্যমে ৩০টি কম্পিউটার নিয়ে ফ্রি কম্পিউটার সেন্টার চালু করেন। তিনি দায়িত্বে থাকা কালে পাঁচ হাজার বেকার যুবককে প্রশিক্ষিত করেন, যেটি এখনও চলমান রয়েছে। প্রসঙ্গত ঝিনাইদহে করোনা উপসর্গ নিয়ে পৌর এলাকার খাজুরা গ্রামে এক ব্যাক্তি ফরিদপুর মেডিক্যালে মৃত্যু হয়। শনিবার সন্ধ্যায় মরদেহ থানায় এনে রাখা হলে জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথের নির্দেশে মরদেহটি নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা শুভ। এ সময় সঙ্গে ছিলেন সদর সার্কেল আবুল বাশার ও সদর থানার ওসি মিজানুর রহমানসহ পুলিশ সদস্যরা।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, ওই ব্যাক্তি মারা গেছেন করোনার উপসর্গ নিয়ে, সে কারণে ভয়ে মরদেহের কাছে কেউ আসতে চাননি। এমনকি গোসল করানো দাফন, জানাজাতেও কেও রাজি হননি। সে কারণে আমাদেরই মানবতার জন্য সবই করতে হয়েছে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা শুভ, পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার, সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান ও আঞ্জুমান মফিদুলের কয়েকজন সদস্য মিলে মরদেহের গোসল করিয়ে কাফনের কাপড় পড়ান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা শুভ জানাযা পড়ান। পরে কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনার পরে মরদেহ বহন ও জানাজাতে নামাজ পড়ানোর ছবি কিছুক্ষনের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়, হাজার হাজার মানুষ প্রশংসা করতে থাকেন। বিনয়ী নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের নির্দেশেই সব হয়েছেন, মানবতাব কাছে ধর্ম পরাজিত হয়েছে। মরদেহের পাশে কেউ যখন আসেনি, তখন আমাদেরতো দাঁড়াতে হবে, সেটাই করেছি।’





