ডুমুরিয়া (খুলনা) সংবাদদাতা॥ খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগরে কুলবাড়িয়ার স্লুইচ গেটের সামনে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে ৫০ হেক্টর ইরি ধানের জমি প্লাবিত হয়েছে। এ সব জমিতে নোনা পানি উঠে গেছে। ফলে এ বিলের দেড়শ’ কৃষকের মাথায় হাত। ধান কাটার মৌসুমে ইরি ধানের জমিতে নোনা পানি উঠায় ধান নষ্ট হওয়া আশঙ্কা করা হচ্ছে। মৎস্য ঘেরে নোনা পানি প্রবেশ করায় সাদা মাছও মরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ও ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড. প্রতাপ কুমার রায়ের তত্ত্বাবধানে ২/৩দিন বিরামহীন চেষ্টায় কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি রক্ষা করেছেন। কিন্তু জমিতে নোনা পানি আটকে রয়েছে। ইরি ধানের জমিতে নোনা পানি উঠে যাওয়ায় কৃষকদের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। কৃষক আমজাদ মোড়ল জানান, জোয়ারের পানির প্রচণ্ড চাপে গত ৯ এপ্রিল বিকালে কাঁঠালতলা মাগুরখালি সড়কের কুলবাড়িয়া স্লুইচ গেটের সামনে থেকে হঠাৎ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে যায়। কৃষক সাত্তার মোড়ল বলেন, বাধ ভেঙে কুলবাড়িয়া বিল, নিচুখালি বিল, চুকনগর বিল, চাকুন্দিয়া বিল, ছোট চ্যাংমারী বিল, বড় চ্যাংমারী বিল, মালতিয়া বিল, মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের সকল বিল, তালা উপজেলার কয়েকটি বিল, গাদরছা বিলসহ কয়েকটি বিলের ইরি ধানের জমিতে নোনা পানি উঠে যায়। আবার কিছু ধান ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষক অনিমেষ জোয়াদ্দার বলেন, করোনা ভাইরাসআতঙ্কের মধ্যে তবু ধানের আশা ছিল। মাত্র ১০/১৫দিন পর বেশির ভাগ জমির ধান কাটা শুরু হতো। কিন্তু নোনা পানি উঠা জমির ধান কাটা নিয়ে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন। ইরি ধানের বেশি ক্ষতির তালিকায় রয়েছেন আরশ বিশ্বাস, নিখিল মন্ডল, শীবপদ মন্ডল, নিখিল রায়, বিধান জোয়াদ্দার, পার্থ সরদার, নিত্য সরদার, দেবাশীষ মন্ডল, বিকাশ সরদার, আশুতোষ মন্ডল, স্বপন সরদার, নগেন্দ্রনাথ মন্ডল, সুশান্ত বিশ্বাস, পুলিন সরদার, সন্তোষ সরদার, সুশীল সরদার, সুবোধ মন্ডল, ব্রজেন মন্ডল, সুনীল মন্ডল প্রমুখ কৃষক।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড. প্রতাপ কুমার রায় বলেন, গত ৯ এপ্রিল বিকালে বাঁধটি ভেঙ্গে ভেতরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। এ সংবাদ তিনি শোনা মাত্রই ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকদের সহযোগিতায় প্রাথমিক পর্যায়ে বাঁধটি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু আবারও ছুটে যায়। গত ২/৩দিন ধরে তিনি তার লোকজন নিয়ে রাতদিন পরিশ্রম করে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ও স্বেচ্ছাশ্রমে শ্রমিক খাঁটিয়ে বাঁধটি বাঁধাসহ পুরনো স্লুইচ গেটটি আপাতত বন্ধ করেন। এতে তার প্রায় লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। এখনও কাজ শেষ হয়নি বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, হঠাৎ বাঁধটি ভেঙ্গে গিয়ে ভিতরে নোনা পানি প্রবেশ করায় ইরি ধানের অপুরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তা কোনও ক্রমেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে আর যাতে ভিতরে পানি প্রবেশ না করতে পাবে সে ব্যবস্থা তিনি করার চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশ পানি কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম বলেন, কিছু অতিলোভী মানুষের কারণে এই বাঁধটি ছুটে গিয়ে এ অঞ্চলে ইরি জমির ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম। তাছাড়া অনেক মৎস্য ঘেরও তলিয়ে গেছে বলে জানান তিনি। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা মো. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, নদীর বাঁধ ভেঙে পানি উঠেছে। কৃষকরা এক হয়ে বাধটি আটকে দিয়েছেন। কিন্তু ৫০ হেক্টর ইরি ধানের জমিতে পানি আটকে আছে। এ পানিতে কিছু ধানের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তা নিশ্চিত হতে আরও সপ্তাহখানিক সময় লাগবে।





