লোকসমাজ ডেস্ক॥ নভেল করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ বিতরণে কেউ দুর্নীতি করলে তাকে ক্ষমা করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটা দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা চলছে। এই সময়ে মানুষকে সাহায্য দেওয়ার জন্য আমরা যেই খাদ্য দ্রব্য দিচ্ছি চাল বা যা আমরা দিচ্ছি সেখান থেকে কেউ যদি দুর্নীতি করার চেষ্টা করে তাহলে এটা কোনো দিন মার যোগ্য না এবং এটা আমরা মা করব না।” তিনি বলেন, “যাদের আমরা দায়িত্ব দিয়েছি তারা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু তার মধ্যে এই সামান্য দুই-একটা ঘটনা আমাদের অত্যন্ত কষ্ট দেয়। এটা খুবই একটা ঘৃণ্য কাজ। কাজেই কেউ এটা করবেন না সেটাই আমি বলব। এই ধরনের দুর্নীতি আমরা কোনো দিন বরদাস্ত করব না।” চুরি করলে কেউ ছাড় পাবে না বলে হুঁশিয়ার করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি অত্যন্ত দুঃখিত যে কয়েকটা এই ধরনের খবর বেরিয়েছে। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বা দুর্দশাগ্রস্ত মানুষকে দেওয়ার জন্য যে খাদ্যশস্য দেওয়া হয়েছে, যে চাল দেওয়া হয়েছে সেখান থেকে যারা দুর্নীতি করার চেষ্টা করেছেন এবং কিছু ধরা পড়েছেন, আশা করি কেউ যদি এমন করেন সবাই ধরা পড়বেন। তাদের কিন্তু কোনো মা নেই। “যদি প্রয়োজন হয় সেখানে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে তাৎণিকভাবে তাদের শাস্তি দেওয়া হবে। বিচার পরে দেখা যাবে।”এই সংকট মোকাবেলায় সবাইকে আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রত্যেকের একটা আন্তরিকতা থাকতে হবে। বিশেষ করে আমরা যারা রাজনীতি করি আমাদের আরও বেশি দায়িত্ববোধ থাকতে হবে, যারা সরকারি বেতন পাচ্ছেন জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। কাজেই প্রত্যেককেই আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।” ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে চলমান লকডাউনের মধ্যে অর্থনৈতিক সংকটে পড়া সবাইকে সহযোগিতার ল্েয কাজ করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা সকলকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। আমরা চাই যেহেতু ব্যবসা-বাণিজ্য কাজ বন্ধ, যারা দিন আনি দিন খাই অথবা ছোটখাটো ব্যবসা করে খেতেন, তারা খুব কষ্টে আছেন। অনেকে হাত পাততে পারে, অনেকে পারে না। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সকলের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার, সবাইকে সাহায্য দেওয়ার।” বৈশ্বিক মহামারীতে রূপ নেওয়া নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন দেশে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের জন্য শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা করোনাভাইরাসে মারা গেছে আমি তাদের জন্য শোক জানাচ্ছি, সমবেদনা জানাচ্ছি। দুর্ভাগ্য যে আমাদের দেশেও এই ভাইরাসের আক্রমণ হয়েছে এবং যার ফলে ইতোমধ্যে ৩০ জন মারা গেছে। তবে এর থেকে বেশি আমাদের সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে গেছে।” শেখ হাসিনা বলেন, “একটা অদৃশ্য শক্তির মতো এই ভাইরাস আমাদের মাঝে এসেছে। এই ভাইরাসটা আজকে শুধুমাত্র একটি দেশ না সারা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই আজ মানুষ তিগ্রস্ত হচ্ছে, আক্রান্ত হচ্ছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রায় ১ লাখ ৩ হাজারের উপরে মানুষ ইতোমধ্যে সারা বিশ্বে মারা গেছে এবং ল ল মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। “অনেক উন্নত দেশ এটা মোকাবেলা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। কোনো কোনো দেশে দিনে হাজারের উপর মানুষ মারা যাচ্ছে।” গত বছরের শেষ দিন চীনের উহান শহরে দেখা দেওয়া নভেল করোনাভাইরাস পরবর্তীতে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে মহামারীর রূপ নিয়েছে। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য মতে, সারা বিশ্বে বিভিন্ন দেশের ১ কোটি ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৫১৭ জন নাগরিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৪ হাজার ২৩৬ জন, মারা গেছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৮৬২ জন। আইইডিসিআরের তথ্য মতে, বাংলাদেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৬২১ জন, যাদের মধ্যে ৩৯ জন সুস্থ হয়েছেন আর ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্স সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস। গণভবন প্রান্তে অন্যদের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।





