শার্শা-বেনাপোলে সমন্ময়হীনতার কারনে কর্মহীনরা সাহায্য না পেয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে

শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা॥ সারা দেশব্যাপী করোনাভাইরাস আতংকে সরকার সব ধরনের জনসমাগম সহ রাস্তাঘাট, যানবাহন, মিল, কলকারখানা, সাধারন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ায় যশোরের শার্শা ও বেনাপোলের হাজার হাজার মানুষকে অনেক কষ্ট করে দিন কাটাতে হচ্ছে। সরকার প্রথম পর্যায় ১০ দিন ,তারপর ৭ দিন এবং আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারীভাবে সাধারন ছুটি ঘোষনা করেছে। এর মধ্যে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাহিরে বের হতে পারছেনা। প্রতিদিন যে সব শ্রমজীবী মানুষ কাজের সন্ধানে বের হতো তারা এখন আর বের হতে পারছে না। যে কারনে কাজ না করতে পেরে শার্শা ও বেনাপোল এলাকার হাজার হাজার মানুষ অর্থাভাবে অতি কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। কর্মহীন অনেকের অভিযোগ এখনও সরকারী অনুদান তারা হাতে পাননি। আর যা দেওয়া হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।
সূত্রে জানা গেছে, শার্শা ও বেনাপোল প্রায় ৫ লক্ষাধীক মানুষের বসবাস। এরমধ্যে অনেকে হতদরীদ্র ও সাধারন মধ্যবিত্ত। দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। এরাই পড়েছে বিপাকে। এজন্য অনেকে সরকারী সহায়তার দিতে তাকিয়ে আছে। কারন কাজ নেই। ঘরে মজুদ খাবার নেই। অনেকের মাঠে বোরো ধান। এ অবস্থায় কেউ ভাল নেই। দেখাগেছে, করোনাভাইরাসের কারনে মানবতার কারনে অনেকে উদ্যোগী হয়ে ব্যাক্তিগত ভাবে নিজস্ব ও প্রতিবেশিদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকে আবার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সাহায্য করছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অপরদিকে সরকারী ভাবে যে সাহায্য দেওয়া হচ্ছে তা দলীয় পরিচয় ছাড়া মিলছে না। কারন যারা সরকারী অনুদান বিতরন করছেন তারা সবাই সরকারী দলের সমর্থক ও দলীয় নেতা কর্মি। যে কারনে তার তৃনমুল পর্যায় বিরোধী পক্ষকে বাদ দিয়ে তালিকা করছে। এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলার সাবেক এক চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, করোনার কারনে এ অবস্থায় সরকারের সাহায্যেও পরিমান খুবই কম। তারপরে দলীয় করন চলছে। তিনি বলেন শার্শা ও বেনাপোলে সমন্ময়হীনতার কারনে প্রকৃত কর্মহীনরা সরকারী সহায়তা পাচ্ছেনা। এমন অবস্থা চলতে থাকলে সাধারন দরীদ্র মানুষের পরিনতী খুব খারাবের দিকে যাবে বলে তিনি মনে করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মন্ডল জানান, সরকারী ভাবে আসা অনুদান সংশ্লিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন থেকে কঠোরভাবে পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে।

ভাগ