শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার যশোরের বড় বাজারে নতুন কৌশল প্রয়োগ প্রথম দিন বৃহস্পতিবার ব্যর্থ হয়েছে। বরং আগের থেকে অধিক মানুষের আরও কাছাকাছি আসার পথ তৈরি হয়। মাছ বাজার ও কাঁচাবাজার শহরের মাত্র একটি রাস্তার দু পাশে নিয়ে আসায় এ সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। অবশ্য গতকাল শুক্রবার আবারও নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করে পৌর কর্তৃপক্ষ।
এদিকে,মোটরসাইকেলের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় বাজার করতে আসা মানুষকে অস্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়। শহরবাসীর দাবি করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে বাজারের সময় আবারও কমিয়ে আনা হোক। সে ক্ষেত্রে অনেকেই বাজার ৬ ঘন্টা খোলা রাখার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মুদি দোকান ও কাঁচাবাজার খোলা রাখার সময়সীমা বেধে দেয়া হয়েছে। গত বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সভায় বড় বাজারে জনসমাগম এড়ানোর জন্য দূরত্ব বজায় রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বড় বাজার মাছ বাজারের দোকান ও নিচের বাজারের তরকারির দোকানগুলো জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এইচএমএম রোডের দু পাশে বসানোর ব্যবস্থা করে পৌর কর্তৃপক্ষ। আগে থেকেই এইচ এম এম রোডের দু পাশে অবশ্য তরকারির দোকান থাকায় নতুন করে আরও দোকান যোগ দেয়ায় মুহূর্তে একটি মাত্র রাস্তায় বিশাল জমায়েতের সৃষ্টি হয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে শহরের ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। রাস্তার দু পাশে দোকানগুলো বসানোয় দোকানি এবং ক্রেতাদের আগের থেকে আরও কাছাকাছি আসার সুয়োগ হয়। এর আগের দিনও বড় বাজার নিচের বাজারে তরকারির অসংখ্য দোকান ছিল। আর মাছ বাজারে বিক্রি হতো মাছ। ফলে এই বাজারে ক্রেতারা বিভিন্ন রাস্তায় গিয়ে কেনাকাটা করতে পারতো। সে ক্ষেত্রে শারীরিক দূরত্ব কিছুটা বজায় থাকলেও নতুন ব্যবস্থায় ভালোর পরিবর্তে বরং আরও খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পৌর কর্তৃপক্ষ আবারও বড় বাজারে নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করে। গতকাল শুক্রবার এইচএমএম রোডের দু পাশ থেকে মাছের দোকান উঠিয়ে নিচের বাজারে বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। সেই মোতাবেক মাছের দোকানগুলো মাছ বাজার থেকে সোজা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় পর্যন্ত বিস্তৃত ঘটানো হয়। আর তরকারির দোকান শুধুমাত্র একটি রাস্তা এইচএমএম রোডের পুরাতন কালীবাড়ি মোড় থেকে বিশিষ্ট কোল্ডস্টোরেজ ব্যবসায়ী শেখ রওশন আলীর বাসভবন পর্যন্ত দু পাশে বসিয়ে দেয়া হয়। এদিকে, আগে থেকেই এইচএমএম রোডের দুই পাশে তরকারির দোকান, মুদি দোকান, কাঠেরপুলে গরুর মাংসের দোকান থাকায় নতুন করে আরও অন্যান্য দোকান এই রাস্তার দু পাশে বসানোর কারণে হঠাৎ করে প্রচুর জনসমাগমের সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল মোটেও সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশের জন্য এপ্রিল মাসটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ মাসের শুরু থেকেই দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। যশোরে অনেকেই হোম কোয়ারেন্টাইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। শহরে মাত্র একজনের শরীরে সংক্রমণের উপিস্থিতি ধরা পড়লে এলাকাজুড়ে লকডাউন এমনিতেই ঘোষণা করার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। পৌরসভার বাজারগুলো অধিক সময় ধরে খোলা রেখে মানুষের সমাগম অব্যাহত রেখে সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয় বলে এলাকার অনেকেই মনে করছেন। শুক্রবার বড় বাজারে এক ক্রেতা আব্দুস সামাদ জানান, কাঁচাবাজার ও মুদি দোকান চালু রাখতে হলে দোকান খোলা রাখার সময় কমিয়ে আনতে হবে। প্রয়োজনে সকাল ৬ টাকা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত খোলা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। আর পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে লকডাউন ঘোষণা করতে হবে। গত ৮ এপ্রিল বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনা প্রতিরোধে সতর্কবার্তা দিয়েছে, এখনও প্রকোপ ছড়ানোর আশঙ্কা কমেনি, তাই মানুষকে ঘরে রাখার কঠোর ব্যবস্থা শিথিল করা যাবে না। সংস্থার মুখপাত্র ক্রিস্টিনা লুদ্যমেয়ার এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এখনই কঠোর পদক্ষেপ থেকে সরে আসা যাবে না।




