এপ্রিল-জুন প্রান্তিক ৭০ লাখ টন শস্য রফতানির সীমা বেঁধে দিল রাশিয়া

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ শস্য রফতানিতে সীমাবদ্ধতা টানার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবকে অনুমোদন দিয়েছে রুশ সরকার। বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস প্রকোপের জেরে অভ্যন্তরীণ বাজার রক্ষায় চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ৭০ লাখ টনের বেশি শস্য রফতানি করবে না রাশিয়া। রুশ সরকারের এ সিদ্ধান্ত ১২ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি আদেশে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স।
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শস্য রফতানিতে রাশিয়ার এ সীমাবদ্ধতা আন্তর্জাতিক বাজারে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না। কারণ এর ফলে দেশটি থেকে শস্য রফতানি খুব একটা কমবে না।
রাশিয়া বিশ্বের শীর্ষ গম রফতানিকারক দেশ। এছাড়া ভুট্টা, যব, ওটসসহ অন্যান্য খাদ্যশস্য রফতানির ক্ষেত্রেও দেশটির অবস্থান বেশ দৃঢ়। বৈশ্বিক মহামারীর প্রকোপ পড়েছে দেশটির বাজারে। বাড়তে শুরু করেছে ময়দার দাম। এ পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ বাজারে শস্য সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রফতানি কমানোর সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মজুদের ৮৩ শতাংশের বেশি শস্য বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে রুশ সরকার। ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হবে এ কার্যক্রম।
রাশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ মুহূর্তে দেশটির সরকারি গুদামে সব মিলিয়ে ১৮ লাখ টন শস্য মজুদ রয়েছে। এর থেকে ১০ লাখ টন শস্য বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।
রাশিয়ার কৃষিমন্ত্রী দিমিত্রি পাত্রুচেভ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ময়দা ও বেকারি শিল্পের প্রয়োজন মেটাতে অভ্যন্তরীণ বাজারে পাঁচ লাখ টনের বেশি শস্য সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে রুশ সরকারের।
শস্য রফতানিতে সীমাবদ্ধতা টানায় দেশটির রফতানি খাতে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী বলেন, মজুদ বাড়ানোর প্রবণতা দেশটির শস্য রফতানি কমানোর ঝুঁকি তৈরি করবে না। এছাড়া রাষ্ট্রীয় মজুদ থেকে সরকার যে শস্য বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে, তা বেশ আগের। ২০০৮-২০১৬ সালের মধ্যে ক্রয় করা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শস্য মজুদ ব্যাপকহারে বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে রাশিয়া সরকার। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে কয়েক বছর ধরে দেশটির শস্য উৎপাদনে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। ফলে পরিকল্পনাটি খুব একটা কাজে আসছে না। রাশিয়ার ময়দা শিল্পের মিলাররা অভ্যন্তরীণ বাজারে গম ও ময়দার দামের ভারসাম্যহীনতা দূরীকরণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে গত সপ্তাহে দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিল।
রাশিয়ান গ্রেইন ইউনিয়নের উপপ্রধান আলেকজান্ডার কর্বুট বলেন, রাষ্ট্রীয় মজুদ থেকে বিক্রি বাড়ানোকে স্থানীয়দের দুশ্চিন্তা উপশমের প্রচেষ্টা হিসেবে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া সর্বোপরি ময়দা ও বেকারি পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি যথাযথ কৌশল হতে পারে এ পদক্ষেপ।
শুধু রাশিয়া নয়, চলতি সপ্তাহে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে একই ট্রেড ব্লকের আওতাধীন অন্যান্য রাষ্ট্রও (কাজাখস্তান, বেলারুশ, আর্মেনিয়া ও কিরগিজস্তান)। জুনের ৩০ তারিখ পর্যন্ত রফতানিকারকদের সূর্যমুখী বীজ, সরিষা ও সয়াবিন রফতানি সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছে দেশগুলো।