লোকসমাজ ডেস্ক॥ করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা রাজধানীর কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক জালাল সাইফুর রহমান মারা গেছেন। সোমবার সকালে তিনি মারা যান বলে ডিবিসি, যমুনা এবং নিউজ টুয়েন্টিফোরসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জানিয়েছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ও সন্তানকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। জ্বর-সর্দি নিয়ে সাইফুর রহমান ৩০ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলীমুজ্জামান জানান, দুদক পরিচালক সাইফুর ৭-৮ দিন আগে করোনা শনাক্ত হয়ে ভর্তি হন। ভোরে হৃদরোগে মারা যান। তার স্ত্রী-সন্তান হোম কোয়ারান্টাইনে রয়েছেন। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তার কভিড-১৯ পরীা করা হয় এবং রিপোর্ট আসে পজেটিভ। এরপর তার পরিবারের সদস্যদেরও আইসোলেশনে রাখা হয়। দুদক পরিচালক জালাল সাইফুর রহমান বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২২ ব্যাচের ছিলেন। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে তাকে দুদকের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
প্রসঙ্গত, সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন কমপে ১১৭ জন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “তিনি ছিলেন একজন সৎ, দ ও মেধাবী কর্মকর্তা। তিনি ছিলেন দেশ ও জনগণের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। তার মৃত্যুতে দেশ একজন মেধাবী কর্মকর্তাকে হারাল।”জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুনও ওই দুদক কর্মকর্তার মৃত্যুত গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের ফেইসবুক পেইজেও শোক প্রকাশ করে বার্তা দেওয়া হয়েছে। কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, করোনাভাইরাস পজেটিভ আসায় গত ৩০ মার্চ ওই দুদক কর্মকর্তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নেওয়া হয়েছিল নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে। ওই দুদক কর্মকর্তা স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে গেছেন। তার পরিবারের সদস্যরা বাসাতেই আছেন বলে ওই হাসপাতাল কর্মকর্তারা জানান।





