স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর)॥ যশোরের মনিরামপুরে সরকারি ৫৫৫ বস্তা চাল জব্দের ঘটনায় পুলিশ আটক চাতাল মালিক আব্দল্লাহ আল মামুন এবং ট্রাক চালক ফরিদ হাওলাদারের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েকব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এসআই তপন কুমার সিংহ বাদী হয়ে শনিবার রাতে এ মামলা দায়ের করেন। রবিবার দুপুরে শুনানি শেষে আদালত ওই দুজনের দু দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে রবিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে ত্রাণের দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিক্ষোভকারীরা চাল পাচারের ঘটনায় একজন জনপ্রতিনিধির ভাগ্নেকে দোষারোপ করে শাস্তির দাবি জানিয়েও বিভিন্ন স্লোগান দেয়। জানা যায়, খুলনা সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে চালভর্তি একটি ট্রাক মনিরামপুর পৌর শহরের বিজয়রামপুরে ভাইভাই রাইস মিল অ্যান্ড চাতালে আনা হয়েছে। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ওই চাতাল ঘিরে রাখে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী এবং পুলিশের পরিদর্শক (সার্বিক) রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে চাতালের গোডাউন থেকে সরকারি ৫৫৫ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। এ সময় আটক করা হয় চাতাল মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ট্রাক চালক ফরিদ হাওলাদারকে। অবশ্য এসময় চাতাল মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন পুলিশ, সাংবাদিকসহ উপস্থিতিদের সামনে সরকারি এ চাল পাচারের ঘটনায় শহিদুল ইসলাম, অষ্টম দাস, জগদিশ দাসসহ জড়িত অনেক কুশিলবদের নাম প্রকাশ করে। অথচ পুলিশ বাদী হয়ে শুধুমাত্র আটক চাতাল মালিক মামুন এবং ট্রাকচালক ফরিদের নামে মামলা করে। অবশ্য এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী অফিসার পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান জানান, আটক দুইজনকে রবিবার দুপুরে শুনানি শেষে যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকরাম হোসেন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্তকারী অফিসার আরও জানান, আটককৃতদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চাল পাচারের ঘটনায় জড়িত অন্যদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এদিকে রবিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে ত্রাণের দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় তারা ত্রাণ না পেয়ে চাল পাচারের ঘটনায় একজন জনপ্রতিনিধির ভাগ্নেকে দোষারোপ করে শাস্তির দাবিতেও বিভিন্ন স্লোগান দেয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী জানান, রবিবার দুপুরে যশোর সিটি প্লাজার চেয়ারম্যান এসএম ইয়াকুব আলী এক ট্রাক ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে আসেন। আর এ খবর জানাজানি হলে বিভিন্ন এলাকার লোকজন জড়ো হয়। কিন্তু লোকসমাগমের কারণে ত্রাণ বিতরণ না করে ইয়াকুব আলী তার কাছে এক হাজার ব্যক্তির একটি তালিকা হস্তান্তর করেন। পরে ট্রাকভর্তি ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে নিয়ে ইয়াকুব আলী নিজ এলাকায় চলে যান। এ সময় ত্রাণ না পেয়ে উপস্থিত লোকজন বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ইয়াকুব আলী জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে তালিকা দিয়ে তিনি চলে যান। পরে তিনি ওই তালিকা অনুযায়ী প্রত্যেকের বাড়িতে বাড়িতে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানান।





