ফুলের রাজধানী গদখালীতে করুণদশা

শিকদার খালিদ॥ ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের গদখালীতে করুণদশা। ফুল বিক্রি করতে না পেরে কেটে কেটে ফেলে দিচ্ছেন কৃষক। কোথাও কোথাও গরু ছাগলকে দিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে। কেউ কেউ অবিশ্বাস্য কম দামে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করছেন ফুল।  যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ও পানিসারা ইউনিয়নের মাঠে মাঠে এখন প্রস্ফুটিত গোলাপ, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা ও গাঁদা ফুল। এমন পূর্ণ প্রস্ফুটিত ফুল সাধারণত চোখে পড়েনা। গোলাপ বা জারবেরা তার পাপড়ি পুরোপুরি মেলে ধরার আগেই তা কেটে বাজার নেন ফুল চাষিরা। কিন্তু এখন চিত্র ভিন্ন। ফুল বিক্রি করতে পারছেন না চাষিরা, তা ক্ষেতেই থেকে যাচ্ছে।
গদখালীর পটুয়াপাড়ার মঞ্জুর আলম বলেন, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে জারবেরা ও চার বিঘা জমিতে গোলাপ ফুলের চাষ করেছেন। কিন্তু গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ফুল বেচতে পারেনি, আবার আসন্ন পহেলা বৈশাখেও একই অবস্থা হবে। তিনি আরও জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সকল অনুষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ফুল জেলার বাইরে পাঠানো যাচ্ছে না চাহিদা না থাকায়। এ অবস্থায় গাছ বাচিয়ে রাখতে তাদেরকে ফুল তুলতে হচ্ছেই। কিন্তু ক্রেতা না থাকায় কাটা ফুলগুলো তারা গবাদী পশুকে দিয়ে খাওয়াচ্ছেন। একই ধরনের কথা বলেন পটুয়াপাড়ার মেহেদি হাসান ও সৈয়দপাড়ার সেলিম মাল। গদখালী বাজারে অবস্থিত ফুল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র ও ফুল প্যাকেজিং ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র একেবারেই জনশূন্য। কয়েকদিন আগেও যেখানে ভোর সকাল থেকে ফুলের বেচাকেনা চলে সেখানে মাত্র তিনজনকে দেখা যায়। তাদের মধ্যে একজন মোহা.উজ্জল হোসেন জানালেন, গদখালী ফুলের মোকামে কোন খরিদ্দার নেই। করোনাভাইরাস আতঙ্কে পাইকাররা আসছেন না। এসময় তারা খুব কম দামে ফুল কিনে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, আগে যেখানে প্রতিটি গোলাপ ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন তারা প্রতি ১শ’ গোলাপ ফুল বিক্রি করছেন মাত্র ২০ টাকায়। পঞ্চাশ পিসের এক আটি জারবেরা, গ্লাডিউলাস ও রজনীগন্ধা বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায় এবং এক হাজার গাঁদা ফুল বিক্রি করছেন ৫০ টাকায়।
গদখালীর সৈয়দপাড়া গ্রামের সেলিম মাল বললেন, ফুল তুলে তারা গরু দিয়ে খাওয়াচ্ছেন অথবা ফেলে দিচ্ছেন। কিন্তু ফুল তুলতে মজুরি খরচ লাগে। খুব কম দামে ফুল বিক্রি করে তারা সেই খরচটা তোলার চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশ ফাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে নেয়া সতর্কতায় সৃষ্ট অবস্থার কারণে যশোরে ৬ হাজার ফুলের কৃষক ও ফুলের উপর নির্ভরশীল দেড় লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সারা দেশে এ অবস্থার শিকার ২০ হাজার কৃষক ও ২০ থেকে ২৫ হাজার পাইকারি বিক্রেতা। তিনি বলেন, জাতীয় দিবসগুলোই ফুল বিক্রির অন্যতম সময়। কিন্তু গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ফুল বিক্রি করা যায়নি। আগামী পহেলা বৈশাখেও একই অবস্থার সৃষ্টি হবে। এতে করে ফুল খাতে সারা দেশে আড়াই শ’ কোটি টাকার ক্ষতি হবে। ফাওয়ার সোসাইটির নেতা প্রধানমন্ত্রী ও কৃষি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফুল চাষিদের পাশে দাঁড়ানো আহ্বান জানান।

ভাগ