স্টাফ রিপোর্টার॥ যশোর মেডিকেল কলেজে (জেএমসি) করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও প্রতিকারে করণীয় বিষয়ে জরুরি সভায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ বলেছেন, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধে নেমেছি। এ যুদ্ধে কারো অবহেলা করার সুযোগ নেই। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার মধ্যে থেকে রোগীর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। যশোর মেডিকেল কলেজ গতকাল বেলা সাড়ে ১০টায় এ জরুরি সভার আয়োজন করে। জরুরি সভায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারি নির্দেশে যশোরের স্বাস্থ্য বিভাগসহ সকল চিকিৎসকগণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ১২টি হটলাইনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (হু)র মাধ্যমে নির্ধারিত গাড়িতে করে যশোর হতে প্রতিদিন রোগীর নমুনা পাঠানো হচ্ছে। পর্যাপ্ত পিপিই মজুদ রয়েছে। চিকিৎসক, সেবিকা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন ওয়ার্ডে ডিইটি রোস্টারের মাধ্যমে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হয়েছে। একটি অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যাধুনিক ল্যাবে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, প্রত্যেক হাসপাতালে ‘ফু কর্নার’ স্থাপন করে জ্বর, কাঁশি, হাঁচিতে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অন্যান্য ওয়ার্ডে চিকিৎসক সেবিকাগণ সেবা দিতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ তাদের পার্সেনাল প্রটেকশন ইকুইভমেন্ট পিপিই নেই। এ অবস্থার মধ্যেও চিকিৎসকগণ তাদের চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছেন। যশোর হতে ২৪টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকা আইইডিসিআর-এ পাঠানো হয়েছে। এর ভেতর ৬টির রিপোর্ট করোনাভাইরাস নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। বাকী ১৮টির রিপোর্ট এখনো আসেনি উল্লেখ করে বলা হয়, করোনাভারাস মোকাবেলায় দু’স্তরে টিম গঠন করা হয়েছে। প্রথম টিমের চিকিৎসকরা আক্রান্ত হলে দ্বিতীয় স্তরের টিমের চিকিৎসকগণ যাতে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন সে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ভাইরাস থেকে সাধারণ মানুষষ যেমন নিরাপদ নয়, তেমনি চিকিৎসক ও তাদের ছেলে-মেয়েরা নিরাপদ নয়। তাই দায়িত্ব পালনে কোন গাফিলতি না করার আহ্বান জানানো হয়। যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায়, যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন, জেএমসির উপাধ্যক্ষ ডা. মো. আক্তারুজ্জামান, মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. এবিএম সাইফুল আলম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ডা. দীন-উল-ইসলাম, মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ডা. গোলাম ফারুক, ডাক. রবিউল ইসলাম, ডা. নাজমুস সাদিক, ডা. ইমদাদুল হক, ডা. ফয়সাল কাদির, মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. গৌতম আচার্য করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সঞ্চালনায় ছিলেন ডা. গোলাম মোর্তজা।
এর আগে যশোর কালেক্টরেট সভাকক্ষে করোনাভাইরাস নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক, সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবিএম ফয়সাল আব্দুল বাতেন, লে. কর্নেল নেয়ামুল হালিম খান, পুলিশসুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, যশোরের সিভিল সার্জন ও হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক উপস্থিত ছিলেন।





