মনিরামপুরে গৃহবন্দি ৭৫০ পরিবারের পাশে মালয়েশিয়া প্রবাসী জসীম উদ্দীন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মালয়েশিয়ায় প্রবাস জীবনযাপন করছেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ইত্যা গ্রামের জসীম উদ্দীন। করোনা ঝুঁকির মধ্যে প্রবাসে বসেই মনিরামপুর উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের কর্মহীন গৃহবন্দি ৭৫০টি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। পরিবারের স্বজনদের মাধ্যমে এলাকার কর্মহীন দরিদ্র মানুষের তালিকা করে তিনদিন ধরে প্রত্যেকটি পরিবারে চাল-ডাল-তেল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার দুপুরে ইত্যা গ্রামের ঋষিপাড়া মন্দিরের পাশে দ্বিতীয়দিনের মত খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় ঋষিপাড়ার ৬৩ পরিবারের সদস্যের মধ্যে সাত কেজি চাল, এক কেজি ডাল ও আধাকেজি ভোজ্যতেলের একটি করে প্যাকেট বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাশিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জি.এম আহাদ আলী, পুলিপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, প্রবাসী জসীম উদ্দীনের বাবা মো. জয়নাল মোড়ল, জসিমের ভাই মো. মহিউদ্দীন প্রমুখ। ত্রাণের প্যাকেট পেয়ে ঋষিপাড়ার বাসিন্দা রেখা রানী বলেন, ‘আমি ইত্যা বাজার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করি। দোকানদারেরা কিছু পয়সাকড়ি দেয়। তাতেই আমার ৫ জনের সংসার চলে। কিন্তু ১০/১২ দিন ধরে বাজার বন্ধ। কোন কাজ নেই। না খেয়ে মরছি। এই প্রথম কেউ ত্রাণ সহায়তার খাবার দিলো। এতে কমপক্ষে তিনদিন চলবে’। ভ্যানচালক বেত কুমার দাস বলেন, ‘বাইরে মানুষজন নেই। ভাড়াও হচ্ছে না। এ জন্য ১০দিন ধরে বাড়ি থেকে ভ্যান বের করিনি। ঘরে খাবার নেই। জসীমের দেওয়া চাল-ডালে তিনদিন সংসার চলানো যাবে। আমিও এই প্রথম কোন খাদ্য সহায়তা পেলাম’। ‘প্রবাসী জসীম উদ্দীনের পক্ষে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ’ এমন লেখা ব্যানার একটি পিকাপের সামনে লাগিয়ে গত শুক্রবার থেকে গ্রামে গ্রামে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। আজ রবিবার বিতরণ কাজ শেষ করা হচ্ছে। গত দুইদিনে ৬২৫ টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
মালয়েশিয়া প্রবাসী জসীম উদ্দীন মুঠোফোনে বলেন, ‘১৯ বছর ধরে আমি মালয়েশিয়ায় আছি। বিদেশে থাকলেও মন পড়ে থাকে দেশের গ্রামে। এলাকার মানুষের যে কোন সংকটে আমি এগিয়ে যাই। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্যে সরকার দোকানপাট, বাজার, পরিবহন সবকিছু বন্ধ রাখার আহবান জানিয়েছে। এতে দরিদ্র মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। মানবেতর দিনযাপন করছেন তারা। যে কারণে আমার পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের কর্মহীন দরিদ্র মানুষের তালিকা তৈরি করে প্রত্যেকটি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। প্রবাসে থাকলে দেশমাতৃকার জন্যে বোধ হয় বেশি মন কাঁদে’। কাশিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান জি.এম আহাদ আলী বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দ আসছে একাবারেই সীমিত। আমার ইউনিয়নে সরকারি বরাদ্দের চাল এ পর্যন্ত মাত্র ২০টি পরিবারে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। জসীম উদ্দীনের মত মানুষ এগিয়ে না এলে জাতির এই ক্রান্তিকালে দুর্যোগ মোকাবিলা করা সরকারের একার পক্ষে অত্যন্ত কঠিন। জসীমের পক্ষে ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের ৭৫০টি দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। দরিদ্র পরিবারের তালিকা তৈরি করতে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের কাজে লাগানো হয়েছে। যে কারণে অত্যন্ত সুচারুভাবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কাজ চলছে’।

ভাগ