ঝিকরগাছা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোরের ঝিকরগাছায় কর্তব্যরত অবস্থায় এসিল্যান্ড ডা. কাজী নাজিব হাসানকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া এবং পরে ঘটনার সাথে জড়িত দুজন আটকের সময় একই নাম্বারের (যশোর-ল-১১-২৩৩৫) দুটি পালসার মোটরসাইকেলর কাগজপত্র ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছে পুলিশ। বর্তমানে উল্লিখিত মোটরসাইকেল দুটি আটক সুব্রত দাস ওরফে অমিত ও আব্দুল্লাহ আল শাকিল কোথায় পেয়েছিল, কার কাছ থেকে কিনেছে এবং মোটরসাইকেল স্লো না করে এসিল্যান্ডকে কেন ধাক্কা দিয়ে পালালো এসব প্রশ্ন ঝিকরগাছাবাসীর মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে।
এদিকে ভুয়া কাগজপত্র সংবলিত গাড়ির প্রকৃত মালিককে পুলিশ খুঁজে বেড়াচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে মামলার বর্তমান তদন্তকারী অফিসার ঝিকরগাছা থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই দেবব্রদ দাস বলেন, প্রাথমিক ভাবে একই নাম্বারের দুটি পালসার মোটরসাইকেলের কাগজপত্র ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক গাড়ির প্রকৃত মালিককে খোঁজা হচ্ছে। তবে আটকের স্বার্থে প্রকৃত মালিকের নাম পরিচয় আপাতত জানানো যাচ্ছে না বলেও স্থানীয় সাংবাদিকদেরকে জানান তিনি।
গত রবিবার চলমান করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন ঝিকরগাছার সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) সদা হাস্যজ্জল ডা. কাজী নাজিব হাসান। এদিন বিকেলে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের বেনেয়ালী/গদখালী এলাকায় নাম্বারবিহীন মোটরসাইকেল, লাইসেন্সবিহীন চালক, মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতকরনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির ওই (যশোর-ল-১১-২৩৩৫) মোটরসাইকেলটির চালক সুব্রত দাস ওরফে অতিম ও সাথে থাকা আব্দুল্লাহ আল শাকিল এসিল্যান্ডের সিগন্যাল অমান্য করে এবং মোটরসাইকেলের গতি না কমিয়ে (এসিল্যান্ড) ডা. কাজী নাজিব হাসানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এ সময় এসিল্যান্ড গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে যশোর পঙ্গু হাসপাতালে নেয়া হয়। দুর্ঘটনায় তাঁর পায়ের বেশ কয়েকটি স্থান ভেঙে যায় এবং কলারবোনও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। যশোর পঙ্গু হাসপাতালে এসিল্যান্ডের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার সকালে ফরিদপুর মেডিকেল থেকে আহত এসিল্যান্ড ডা. কাজী নাজিব হাসানকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পায়ে অস্ত্রেপচার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লিখিত ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস সহকারী শাহাজালাল ঝিকরগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।





